অপারের শিল্পকর্মে ঢাকা শহর

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪১

জন্মের পর থেকেই ছবি আঁকার সঙ্গে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছিলেন অপার জামান। ছবি আঁকা দেখতে দেখতে বড় হয়েছেন তিনি। বাবা প্রতিথযশা শিল্পী মনিরুজ্জামান আর মা শিল্পী রুখসানা সাদিয়া পপির শিল্পচর্চা অপারের শিল্পী হওয়ার প্রথম অনুপ্রেরণা বললে ভুল বলা হবে না। এরপর ধীরে ধীরে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত শিল্পীদের স্বচক্ষে দেখা আর শিল্পকর্ম দেখতে দেখতে হয় শিল্পী অপার জামানের হাতেখড়ি। বুঝে গিয়েছিলেন তাকে শিল্পীই হতে হবে। সেই সঙ্গে ব্যস্ত-ঘনবসতিপূর্ণ আর নির্মাণাধীন শহর ঢাকার বিভিন্ন অনুষঙ্গ হতে থাকে তার শিল্পসৃষ্টির উপায়। 

নবীন শিল্পী অপার জামানের শিল্পশিক্ষার প্রাথমিক পাঠ সেরে নিয়েছিলেন শৈশবেই। এ অর্জন কাজে লাগাতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পাড়ি জমালেন যুক্তরাজ্যে। হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলা বিষয়ে অর্জন করেন স্নাতক ডিগ্রি। আর ২০১৩ সাল থেকে দেশ-বিদেশে তিনি বিভিন্ন প্রদর্শনী ও কর্মশালায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন। সর্বশেষ বিশ্বে শিল্পশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েল কলেজ অব আর্টস থেকে ভাস্কর্য বিষয়ে গ্রহণ করেছেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। ২০১৬ সালে ঢাকায় নিরীক্ষাধর্মী কাজের একক প্রদর্শনীও হয়েছে তার। 

চলতি বছর লন্ডনের স্ট্যান্ডপয়েন্ট গ্যালারির করোনা মহামারিকে উপজীব্য করে আয়োজিত প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন অপার। এছাড়া ২০১৮ সালে ঢাকা আর্ট সামিটে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এ আয়োজনে প্রদর্শিত ভবন নির্মাণ উপকরণ দিয়ে করা শিল্পকর্মটি শিল্পরসিকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছিল। এর পাশাপাশি অপার জামান কিউরেটর হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিল্পীদের অংশগ্রহণে তিনি নিয়মিতভাবে প্রদর্শনী-কর্মশালা-রেসিডিন্সির আয়োজন করছেন। 

ঢাকা শহর কেন তার শিল্পচর্চার প্রেরণা- এ বিষয়ে জানতে চাইলে অপার জামান বলেন, ঢাকা সবসময় আমার অনুশীলনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানত শহরটিতে দৈনন্দিন জীবন-যাপনে যে তীব্রতা এবং শহরটিতে থাকা সক্রিয়ভাবে স্বভাবজাত গোলমেলে নান্দনিকতা যা আমার ধারণা ও কাজের নান্দনিকবোধ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। 

নতুন উপকরণ ও মাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাধ্যমের প্রকৃতি সবসময় বিবর্তিত হয়। তাই নিরীক্ষার বিষয়টি সবসময় এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত থাকে। ফলে কোনো শিল্পী তাদের শিল্পকর্ম তৈরির উদ্দেশ্য এবং তাদের কাজ কীভাবে তৈরি হবে সেই উদ্দেশ্যটি প্রায়শই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। একজন শিল্পীর কাছে নিরীক্ষার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাকে সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়াটি লালন করতে হয়। 

অপার আরো বলেন, একজন শিল্পীর তার চারপাশের পরিবেশ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাকে সবসময় এ বিষয়ে সাড়া দিতে হয়। এ কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিল্পীকর্মগুলোকে বাণিজ্যিক বা খুব বিমূর্ত মনে হতে পারে। ফলে একজন শিল্পীর জন্য চ্যালেঞ্জটির বিষয়টি হলো- পরম উপলব্ধির প্রতিক্রিয়া জানানো। এছাড়া আমাদের শিল্পচর্চা যেন আরও বড় পরিসরে দর্শকদের উদ্দেশ্য সম্বোধন করতে পারে সেই বিষয়টি উপলব্ধি করা। 

শিল্পচর্চার পাশাপাশি কিউরেটর হিসেবে নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে অপার বলেন, আমার কাছে বিষয়টি এমন যে, আমি শিল্পীদের সঙ্গে সংযোগ রাখতে সক্ষম হচ্ছি কিনা। এছাড়া বিভিন্নভাবে সময়ের প্রেক্ষিতে শিল্পী ও শিল্পকর্মকে কীভাবে মূল্যায়ন করছি। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমার সম্পর্কটি হলো- কীভাবে এ কাজটি আমার জন্য সুযোগ করে দিচ্ছে। এর ফলে কী করে চিরকালীন বিকশিত সৃজনশীল প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি কীভাবে যুক্ত হতে পারবো তাতে মনোযোগী হওয়া- যা শেষ পর্যন্ত একটি অভিজ্ঞতা তৈরি করে। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সবসময় আন্তঃসাংস্কৃতিক আয়োজনগুলো উপভোগ করি। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণ করা আয়োজন আমার জন্য আগ্রহ উদ্দীপক। আমি ব্রিটিশ শিল্পী পল জনসন এবং ডেভিড কেফর্ডের সঙ্গে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো শিল্প বিষয়ে আন্তঃদেশীয় আয়োজন করা। আশা করি, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের উদীয়মান শিল্পীদের নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করব।  

ইত্তেফাক/বিএএফ