জামালপুরে দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় কৃষির ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২৭

জামালপুরে দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় কুষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন ফসল চাষা আবাদ করে ছিল। কিন্তু এ বৎসর দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় ধান, পাট, আখ, ভুট্টা, শাক-সবজি রোপা আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে সারা জেলায় প্রায় ১ শত ৪০ কোটি টাকা ফসলের ক্ষতি হয়েছে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। 

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ি, বকশিগঞ্জ ও জামালপুর সদর উপজেলার ৫৯ টি ইউনিয়নের ৬৭৭ টি গ্রামের মোট ২৬ হাজার ২০৬ হেক্টর জমির আউশ, রোপা আমন বীজতলা,পাট, ভুট্টা, আখ, মরিচ, কলা, তিল, বাদাম শাকসবজিসহ অন্যান্য জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। তার  মধ্যে ১৫ হাজার ৪৯২ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ এবং বাকি ১০হাজার ৭১৪ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে ২হাজার ৯২ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা, ৪ হাজার ২৮৮ হেক্টর জমির আউশ, ৭ হাজার ৪৪ হেক্টর পাট, ১ হাজার ৮৩৮ হেক্টর শাকসবজি, ১০ হেক্টর জমির ভুট্টাসহ মরিচ, আখ, কলা, তিল, বাদামের ফসল রয়েছে। তাতে সরকারি হিসাব অনুযায়ী সর্বমোট ১ লাখ ৯০ হাজার ২৭ জন কৃষকের প্রায় ১ শত ৪০ কোটি টাকা ফসল এ বছর বন্যায় ক্ষতি হয়েছে। 

এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের ভুক্তভোগী কৃষক সিদ্দিক মণ্ডল, ওয়াজ উদ্দিন, সামছুল হক, আব্দুর রহমান, দেওয়নগঞ্জ উপজেলার বহাদুরাবাদ ইউনিয়নের আব্দুল করিম মিয়া, জুলহাস মিয়া, আব্দুল মজিদ সেখ ও মহসিন মোল্ল্যা এসব কৃষকরা জানান, বন্যায় তাদের কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট হয়ে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় এ পর্যন্ত সরকারি কোন সহযোগিতা তারা পাননি। তাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা। অপর দিকে শত কষ্টের মাঝেও অনেক কৃষক  নিজ উদ্যোগেই ঋণ করে আবারও নতুন করে চাষাবাদ শুরু করেছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।আমন চারা রোপণের পাশাপাশি শাক সবজি তরিতরকারি,মরিচের চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

এ ব্যাপারে জামালপুর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এ বছরের দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় সারা জেলায় কৃষকদের প্রায় ১ শত ৪০ কোটি টাকা ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ জমিতে আমন চারা রোপণ করা হয়েছে। নতুন করে বন্যা দেখা না দিলে আবারও কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।