উলিপুরে তিস্তার ভাঙনে হুমকিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সহস্রাধিক ফসলি জমি

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:০৫

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বন্যার পানি নেমে যেতেই দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। টানা কয়েকদিনের তিস্তা নদীর ভাঙনে বসত-বাড়িসহ কয়েক’শ একর আবাদি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে স্কুল, মাাদ্রাসা ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। স্থানীয় লোকজন বাঁশ, গাছের গুড়ি ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। 

সরেজমিনে উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার গ্রামের গিয়ে দেখা যায়, প্রতি মুহুর্তেই ভেঙে যাচ্ছে রোপা আমন ক্ষেতসহ ঘর-বাড়ি। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন উঁচু স্থানে। দীর্ঘ বন্যার ধকল কাটতে না কাটতেই ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো দিশেহারা। 

ওই গ্রামের নুরল হক বলেন, ‘হাল গিরস্ত সইগ আছিল বাহে, আইজক্যা মুই নিঃস্ব হয়া গেনু। এহন হামাক বাঁন্ধের আস্তাত যায়া থাকা নাগবে’। একই কথা বলেন, ওই গ্রামের আজিজার রহমান, আবুল মালেক, জয়নাল আলী, মোস্তা মিয়াসহ অনেকে। 

তারা জানান, তিস্তার ভাঙনের এ গ্রামের মানুষ তাদের ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে নদের তীব্র ভাঙনে গোড়াইপিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়ারী দাখিল মাদরাসা, গোড়াইপিয়ার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ঝাঁকুয়াপাড়া, মন্ডলপাড়া, কুমারপাড়া, মুলাধোয়ারপাড় গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি ও সহ¯্রাধিক একর ফসলি জমি ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।

কুড়িগাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। দ্রুত ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে।

ইত্তেফাক/এসি