ঘুড়ির সুতোয় মাঞ্জা দিয়েছি ঘুরেছি পাড়ায় পাড়ায়
মেঘের আকাশে উড়েছে ঘুড়ি, ঘুড়ি কি কোথাও দাঁড়ায়?
ডানা মেলা পাখি উড়াল দিয়েছে ঘুড়ির সঙ্গী হয়ে
ভোকাট্টা হয়ে দূর পাহাড়ের খবর এনেছে বয়ে।
হারিয়ে যাওয়া ঘুড়ির জন্য জমাট কান্না নিয়ে
গাছের আড়ালে দু’চোখ মুছেছি জামার অংশ দিয়ে।
উড়াল ঘুড়ির হাতছানি দুখী পর্দা ফেলেছে মুখে
ঘুড়ি উড়ে গেছে আপন গতিতে ঘুরপাক খেয়ে সুখে।
সন্ধ্যা আকাশে ফুটি ফুটি তারা গলির ল্যাম্পে আলো
পায়ের গোড়ালি ধুলোয় মলিন মায়ের মুখটি কালো।
নাটাই লুকোই খাটের নিচে ঘুড়িটা ঘুমোয় সাথে,
জানি মা’র মুখে ফুটবে হাসি বইটা নিলেই হাতে।
পরদিন ফের ছুটির দুপুরে সুতোয় নতুন ঘুড়ি
নাটাই হাতে আকাশে দু’চোখ সারাদিন রোদে পুড়ি।
সাদা রং ঘুড়ি মেঘের কন্যা মিশে গেছে কোন গঞ্জে
চৈত্র বিকেলে রঙিন সুতোয় সূর্য কি যেত রঞ্জে?
ঘুড়ির নেশায় এমন মত্ত কৈশোর ছেলেবেলা
স্মৃতির রুমাল হারিয়ে ফেলিনি বুকেতে রয়েছে মেলা।
ঘুড়ি উড়েছিল আমার জীবনে তাই মনে মনে উড়ছি আজো
শোন ছেলেবেলা শোন কৈশোর তুমিও কিন্তু ঘুড়িতে সাজো।
অলঙ্করণ
ফাহমিদা ইসলাম মায়িশা
দশম শ্রেণি
তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
ঢাকা
