‘আচ্ছা স্যার, কাকতালীয় শব্দটি কীভাবে এল?’
‘কাক উড়ে গিয়ে বসল তালগাছে, অমনি তাল পড়ল পুকুরে! কাক কিছুই করেনি অথচ সবাই আঙুল তুলল কাকের দিকে—এভাবেই এল কাকতালীয় শব্দটি। আচ্ছা, পাখি হিসেবে কাককে তোমাদের কেমন লাগে?’
‘কাকের কণ্ঠস্বর কর্কশ, তার স্বভাবও কর্কশ। সাবান চুরি করে, মুরগিছানা ছোঁ মারে, বাচ্চাদের হাত থেকে রুটি ছিনিয়ে নেয়...’
‘তার কণ্ঠস্বর কর্কশ নয়। সে আসলে তার অভাবের কথা জানায়। অভাবের কথা জানালে চিত্কার করতে হয় আর চিত্কার সবসময়ই কর্কশ! সে আসলে বোকা পাখি। প্রশংসা শুনে গলে যায়, তখন মাংসের টুকরো চলে যায় শিয়ালের মুখে—এ কিচ্ছা তোমরা জানো।’
‘জানি স্যার, আরো জানি—নিজের বাচ্চা মনে করে সে কোকিলের বাচ্চাকে বড়ো করে!’
‘আচ্ছা, পাখি হিসেবে কোকিলকে তোমাদের কেমন লাগে?’
‘কেকিলের কণ্ঠস্বর মিষ্টি; তার স্বভাবও মিষ্টি, লাজুক। মিষ্টি কণ্ঠে গান শোনায়। সেই গানে ফুল ফোটে, অন্য পাখিরাও গায়, প্রকৃতি তখন রংধনুকে আকাশ থেকে নামিয়ে বেছে বেছে রং মেখে নেয়। আমরা উপভোগ করি।’
‘না। কোকিল আসলে কাকের বাসার কাছে গিয়ে তার সন্তানকে ডাকে! ডাক শুনে কাকছানাদের ওম থেকে, মা-কাকের বিস্মিত চোখের সামনে থেকে জীবনে প্রথমবারের মতো কোকিলছানা ডানা ঝাপটায়! তারপর উড়ন্ত মা-কোকিলের ডাক শুনতে শুনতে তার পিছু পিছু উড়ে চলে...’
