প্রণব মুখার্জি ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৫

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত ড. প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। উপমহাদেশের কিংবদন্তি এ রাজনীতিক জীবদ্দশায় আরো একবার বাংলাদেশে আসার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মৃত্যুতে সেই আশা আর পূরণ হলো না তার।

প্রণব মুখার্জির স্ত্রীর বাবার বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইলে। এ কারণেও বাংলাদেশের প্রতি তিনি সব সময় বাড়তি টান অনুভব করতেন। তিনি বাংলাদেশের সন্দেশ বিশেষভাবে পছন্দ করতেন। ইলিশের প্রতিও ছিল তার প্রবল আসক্তি।

ড. প্রণব মুখার্জির একটা কথা আমাকে প্রবলভাবে আলোড়িত করে। তিনি বলেছিলেন, সাফল্যের পথ খুব সহজ। একবার রাস্তা যদি চিনে ফেলা যায়, তাহলে চলার পথ খুব সহজ হয়ে যায়। প্রণব মুখার্জির জীবন-আদর্শ-সমাজ-রাজনীতি-সংস্কৃতির্চচা বিশ্লেষণ করে বলা যায়, তিনি ছিলেন একজন উঁচু মানের বরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। দেশের বেসরকারি খাতে অন্যতম উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন, টেকনলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস)-এর সমাবর্তনে আসার সম্মতি দিয়েছিলেন ড. প্রণব মুখার্জি। এর আগে ভারতের আরেক সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আবদুল কালামও এ প্রতিষ্ঠানের সমাবর্তনে এসেছিলেন। ড. প্রণব মুখার্জি তা জানতেন।

তিন বছর আগে দিল্লিতে তার বাসভবনে আমরা ড. প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমাদের আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন। তার উষ্ণ আতিথেয়তা আমাদের মুগ্ধ করে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, সুফি মিজান, আপনাকে আমি জানি। আমরা সবাই তাতে খুব সম্মানিত বোধ করেছিলাম। এ সময় সঙ্গে ছিলেন আমার পুত্র ও পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক আমির হোসেন সোহেল ও দিল্লির নিজামুদ্দিন আউলিয়া দরবার শরিফের সাজ্জাদানশিন নাজিম আলি নিজামি।

ড. প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছি। তার মৃত্যুতে উপমহাদেশের এক বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে আমরা হারালাম। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

n লেখক :চেয়ারম্যান, পিএইচপি ফ্যামিলি