নারায়ণগঞ্জে ‘ধর্ষণ ও হত্যার দায়’ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামির মধ্যে নৌকার মাঝি খলিলুর রহমান জামিনে মুক্ত হয়ে বলেছেন, ‘ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি’ দিতে তাকে বাধ্য করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বন্দরের একরামপুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে খলিল এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে উলটো করে ঝুলিয়ে মুখে গামছা বেঁধে অনবরত মুখে পানি ঢালে। পানি ঢালার কারণে দম বন্ধ হয়ে যেত। আমাকে বলে, যদি মিথ্যা স্বীকারোক্তি না দেই তাহলে আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হবে। এভাবে কাউকে নির্যাতন করা হলে যে কেউ মারা যাবে।’
খলিলের অভিযোগ, তাকে নির্যাতন করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছেন ঐ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আল মামুন।
পুলিশি নির্যাতনে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া খলিল গতকাল তার নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার চোখের পানি মুছছিল। গত মঙ্গলবার তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। বন্দরের একরামপুরে নৌকার মাঝি খলিলুর রহমান পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করেন। তার স্ত্রী শারমিন বেগম ও প্রতিবন্ধী এক মেয়েসহ তিন মেয়ে নিয়ে খলিলের পরিবার। স্বামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান শারমিন। তিনি আরো বলেন, বুধবার খলিলকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় নেই। ডাক্তার অনেক পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু অনেক টাকা লাগবে দেখে পরীক্ষা না করিয়ে বাড়িতে ফেরত এসেছি। আগে থেকেই তার অসুখ ছিল। মারধর করে আরো অসুস্থ বানিয়ে ফেলেছে।
গত ৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জের এক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার সদর থানায় মামলা করে। এ ঘটনায় খলিলসহ তিন জন ‘ধর্ষণ ও হত্যার দায়’ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে ঐ কিশোরী ফিরে এলে জামিন পান খলিল। তবে অন্য দুই আসামির জামিন এখনো হয়নি।
ঐ সময় কিশোরীর স্বজনরা খলিলকে গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে বরখাস্তকৃত এসআই শামীম তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। খলিল আরো জানান, ‘এসআই শামীম এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। সদর থানায় আমার সামনে দুই ছেলেকে (আব্দুল্লাহ্ ও রকিব) দেখিয়ে বলে, তুই ওদের চিনিস কি না? তখন আমি বলি তাদের আমি চিনি না। তখন আমাকে মারধর শুরু করেন তিনি।’
নিখোঁজের ৫১ দিন পর আলোচিত সেই কিশোরীকে বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধারের পর সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গত সোমবার মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে শামীমকে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থেকে বাদ দিয়ে সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। তদন্ত কমিটি এসআই শামীমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে বলে পুলিশ সুপার জানান।
