স্পোর্টস রিপোর্টার
কুস্তি ফেডারেশন কর্মকর্তাদের আক্ষেপ এখনো তাদের নিজস্ব কোনো ভেন্যু হয়নি। কোনো খেলার আয়োজন করা হলে হ্যান্ডবল কিংবা রোলার স্কেটিংয়ের ফাঁকা জায়গা পেতে আবেদন করতে হয় ফেডারেশনটিকে।
একসময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনেসিয়ামে কুস্তি হতো। সেটিকে চারদেয়ালের মধ্যে না রেখে লোকচক্ষুর সামনে নিয়ে আসতে হ্যান্ডবল এবং পরবর্তীতে রোলার স্কেটিংয়ের জায়গায় চলে আসে তারা। বড় পরিসর হলেও নিজেদের ভেন্যু থাকলে সেখানে আরো গোছানো আয়োজন করা যায় বলে মনে করেন কুস্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তবিউর রহমান পালোয়ান।
তার মতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কুস্তিগীরদের অনুশীলনের ব্যবস্থা নেই। সার্ভিসেস দলের নিজেদের স্থান থাকলেও এর বাইরে যারা রয়েছেন তারা কষ্ট করে অনুশীলন করেন। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার বাউশিয়া ইউনিয়নের জুয়েল হোসেন কাল লড়াই করছিলেন সেনাবাহিনীর মেহেদী হাসানের বিপক্ষে। ৭০ কেজি ওজন শ্রেণিতে প্রত্যাশিত হারই মেনে নিতে হয়েছে জুয়েলকে।
অপরদিকে সেনাবাহিনীর মেহেদী হাসান ছিলেন পরিপাটি। আর জুয়েল ছিলেন উদাম শরীরের। পায়ে কেডস নেই। বার্সেলোনার লোগো লাগানো পরনে হাফপ্যান্ট। কুস্তির পাশাপাশি জুয়েল ফুটবলও খেলেন। জুয়েল বলছিলেন,‘আমরা কোনো রকমে খেলছি। পারব কীভাবে। আমি যদি একটু টেকনিক জানতাম তাহলেও চলত।’
বাইরের কুস্তিগীরদের কথা উঠতে সাবেক কোচ ফারুক আহমেদের কণ্ঠে ঝরল আক্ষেপ। তার মতে,‘এখানে খেলাধুলায় উন্নতি হবে না। ক্রীড়া নীতি নেই। আর্থিক সচ্ছলতা নেই। বাবা মায়ের উত্সাহ নেই। লং টাইম প্রশিক্ষণ নেই। তাহলে খেলোয়াড় আসবে কীভাবে।’
যশোরের বসুদিয়ার ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরিরত মেহেদী হাসান সেরা কুস্তিগীরদের একজন। চেষ্টা করছেন তার দল সেনাবাহিনীকে ভালো কিছু উপহার দিতে। এরই মাঝে জাতীয় কুস্তির পুরুষ ও নারী লড়াইয়ের পুরস্কার বিতরণ শেষ। ওয়ালটন জাতীয় কুস্তির লড়াইয়ে পুরুষ বিভাগে আনসার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
বিজিবির বিল্লাল হোসেন এবার নিয়ে ১২টি পদক পেয়েছেন। ৪০ বছর বয়সের এই কুস্তিগীর জানালেন আমার চেয়েও আমার কোচ মিজানুর রহমান ১৩ বার পদক পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। আমার বয়স হয়েছে, উনাকে হারাতে পারব কিনা জানি না।’ পুরুষদের মধ্যে সেরা কুস্তিগীর হয়েছেন আনসারের মাহবুব আলম।
