বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্যাশন ফলের চাষ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৬

আবুল কাসেম ভূঁইয়া  

 

বিদেশি প্যাশন ফল এখন বাংলাদেশে চাষ হচ্ছে। দেশের পার্বত্য অঞ্চলে এই ফলের বেশ কিছু গাছ থাকলেও এখনো পর্যন্ত এ দেশের মানুষের কাছে এই ফল তেমন পরিচিত নয়। এই ফলকে অনেকে ট্যাং ফলও বলে থাকে। খুব সুস্বাদু এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলটির উত্পত্তিস্থল সুদূর ব্রাজিলে। হাওয়াই, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়ায় এই ফল বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা হয়। প্যাশন ফলের ভেতরের গোত্রে হলুদাভ রসপূরণ থলে থাকে। এগুলোই ভক্ষণযোগ্য অংশ। একটি ৬০ গ্রাম ফল থেকে ৩০ গ্রাম রস পাওয়া যায়। এর বীজকে আবৃত করে থাকা হলুদ, জিলঠিনাস, সুগন্ধিযুক্ত পাল্পকে পানিতে মিশিয়ে সুস্বাদু রস তৈরি করা যায়। এটিকে অন্যান্য জুসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। পাল্পকে প্রক্রিয়াজাতকরণ করে আইসক্রিম, জুস, স্কোয়াশ, জ্যাম ও জেলি তৈরি করা যায়।

বাংলাদেশের মতো উষ্ণ অঞ্চল প্যাশন ফল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। যে কোনো ধরনের সুনিষ্কাশনযোগ্য মাটিতে প্যাশন ফল চাষ করা যায়। প্যাশন ফলের মধ্যে বারি প্যাশন ফল-১ সর্বাধিক চাষ হচ্ছে। ফসলের গড় ওজন ৬৮ গ্রাম এবং ৩০ গ্রাম রস পাওয়া যায়। বীজ ও শাখা কলম দিয়ে ফলের বংশ বিস্তার করা হয়। চারা রোপণের দুই বছর পর থেকেই ফল ধরা হয়। পাঁচ-ছয় বছর ফল দিয়েই গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। যেহেতু নতুন শাখায় ফল উত্পাদিত হয় সেজন্য মাঝে মাঝে ডালপালা ছাঁটাই করে দিতে হয়। এতে নতুন শাখা-প্রশাখা বের হওয়ার সুযোগ দিলে ফলন বৃদ্ধি পাবে।

শীতকালে ছাঁটাই করার উপযুক্ত সময়। ফল থেকে বীজ আলাদা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ছায়ায় শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। এ বীজ সরাসরি বীজতলায় অথবা পলিব্যাগে বপন করে চারা তৈরি করা যায়। তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে বীজ অঙ্কুরিত হয়। চারা দুই-চারটি পাতা সম্পন্ন বীজতলা থেকে তা তুলে পলিব্যাগে স্থানান্তর করা যায়। চারার বয়স তিন-পাঁচ মাস হলে ৩০-৪০ সেন্টিমিটার লম্বা হলে রোপণের উপযুক্ত হয়। তিন-পাঁচ মাস বয়সের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। কাটিং চারা তৈরির উপযুক্ত সময় হচ্ছে মে-আগস্ট মাস। কাটিং চারায় মাতৃ গুণাগুণ বজায় থাকে। চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হচ্ছে মে-আগস্ট মাস। বর্ষাকালে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমতে না পারে সেজন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। গাছে ফল পাকার পর মাটিতে পড়ে গেলে তা সংগ্রহ করতে হয়। হলুদ জাতের ফল বেগুনি জাতের ফলের তুলনায় বেশ উন্নত।

আমাদের দেশে পার্বত্য অঞ্চলে প্যাশন ফলের চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। অনেক আগ্রহী চাষি প্যাশন ফল চাষের ব্যাপারে এগিয়ে আসছেন। কিন্তু তারা উপযুক্ত সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়ায় সফল হতে পারছেন না।