মহিলা পরিষদের অনলাইন আলোচনায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সরকার যেসব নারীবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তার সঙ্গে সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন না দিলে সেগুলোর সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে না বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। তাই নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা রোধে সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করা হয় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সিডও দিবস আলোচনায়। গত মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহানগর কমিটির যৌথ উদ্যোগে অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন বক্তারা। আলোচনা অনুষ্ঠানে অতিথি আলোচক ছিলেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম এনালিস্ট সোহেল রানা, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, প্রতিবন্ধী নারী প্রতিনিধি নাজমা আরা বেগম পপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন , বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার সিডও সনদ অনুমোদনের পর চারটি ধারার সংরক্ষণ প্রত্যাহারের জন্য নিয়মিতভাবে এডভোকেসি ও লবিং করে আসছে। এর ফলে আইন বিভাগের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নারীবান্ধব আইন গৃহীত হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি পর্যায়ে গৃহীত কিছু কর্মসূচি নারীর অগ্রগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন কোভিড মহামারিতে নারীও কন্যার প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নারীর প্রতি বৈষম্যের জন্যই হয়েছে।
রেকর্ডকৃত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, একটি দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল হিসেবে সিডও সনদ গৃহীত হয়। সামাজিক বৈষম্য দূর করে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সিডও গুরুত্বপূর্ণ। এটি সব ক্ষেত্রে নারীর সমতার কথা বলে। সমতা তখন আসবে যখন সমান সুযোগের সঙ্গে ফলাফল ও সমান আসবে। এটি নিশ্চিত করতে হলে অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ বাস্তবায়ন ও দরকার। তার জন্য রাষ্ট্রের ও দায়বদ্ধতা আছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, সিডও সনদের সংরক্ষিত ধারা প্রত্যাহার না হলে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় শুভঙ্করের ফাঁকি থেকেই যাবে।
নাজমা আরা বেগম পপি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিবেদনে প্রতিবন্ধী নারীর বিষয়টি সামান্যই উপস্থাপিত হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, নারীর প্রতি বৈষম্য এবং সিডও সনদের ধারার ওপর সংরক্ষণ প্রত্যাহার না হওয়া পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। এর জন্য সাংবাদিকসহ প্রতিটি সেক্টরকে আরো গভীরে কাজ করতে হবে। ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম এনালিস্ট সোহেল রানা সরকারের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সংস্থাগুলোকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা। মূল প্রবন্ধে বলা হয়—তিন দশকের অধিক সময় ধরে বাংলাদেশের নারী আন্দোলন ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সিডও সনদকে নারীর মানবাধিকার, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, বৈষম্য দূর করতে হলে নারীকে নির্যাতন থেকে মুক্ত হতে হবে। এর জন্য সামাজিক সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সিডও ধারার সংরক্ষণ প্রত্যাহারে সরকারের দায় সরাসরি জড়িত। এ সনদের সুফল পেতে হলে রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে, অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সনদের দুটি ধারায় বাংলাদেশ সরকারের সংরক্ষণ বহাল রাখার বিষয়ে কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ এবং এই ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে সিডও সনদের ধারাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা, বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহসহ অন্যান্য সামাজিক রীতিনীতি যা নারী এবং কন্যাদের প্রতিনিয়ত পেছনে টেনে রাখে সেসব রীতিনীতি দূর করার সুপারিশ করা হয়।
