পূর্ব সুন্দরবনের বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২০

পিরোজপুর অফিস ও শরণখোলা সংবাদদাতা

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের বনরক্ষীরা দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। বনের বিলে আবার মাছ ধরা শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর আশঙ্কা সুন্দরবনে আবার আগুন লাগতে পারে। কারণ, ঐ এলাকায় ফসফরাস আছে। জেলেদের অসতর্কতার কারণে রান্না করা ও ধূমপানের সময় ইতিপূর্বে কয়েকবার আগুন লেগেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের বনে অগ্নিকাণ্ডের স্থান তুলাতলা বিল ও নিশানখালী খালে আবার শুরু হয়েছে মাছ ধরা। শরণখোলার পশ্চিম রাজাপুর বটতলা এলাকার লতিফ পহলান তার লোকজন নিয়ে প্রতিদিন তুলাতলা বিল থেকে কারেন্ট জাল দিয়ে এক দেড় মণ শিং, মাগুর ও কৈ মাছ ধরে খুলনায় চালান দিচ্ছেন। বিলে মাছ ধরার কারণে আগামী দিনে ঐ এলাকায় নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গ্রামবাসী। অন্যদিকে শরণখোলা রেঞ্জের ডুমুরিয়া ও ছালুয়া এলাকায় শরণখোলা ও পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকার কতিপয় মানুষ ঘাস খাওয়ানোর জন্য তাদের পালিত মহিষ সুন্দরবনে ছেড়ে দিচ্ছে। মহিষগুলো চারা গাছ খেয়ে ফেলায় নতুন বনায়ন হচ্ছে না। ডুমুরিয়া টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা সুন্দরবনে মহিষ চরানোর সুযোগ দিচ্ছে।

অপরদিকে, কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরেস্টার আবুল কালামের বিরুদ্ধে ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ করেছে জেলেরা। ওসি কালাম অন্যায়ভাবে আটক করে গত ২৪ আগস্ট পাথরঘাটা উপজেলার হাঁড়িটানা গ্রামের জেলে মো. কবির হোসেন আকনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ও হাঁড়িটানা গ্রামের জেলে রাসেল মাঝিসহ পাঁচ জেলের কাছ থেকে ১০ হাজার ঘুষের টাকা বিকাশের  ০১৫৩৫১৯৭১৪৬ ও ০১৫৭৫৪০৩৩৭৪ নম্বরের মাধ্যমে নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে  ঐ জেলেরা অভিযোগে করেছে। সুষ্ঠু তদন্তে সব অনিয়মের সত্যতার প্রমাণ মিলবে বলে ভুক্তভোগী জেলেরা জানিয়েছেন। কটকার ওসি মো. আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।