করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় এপ্রিল থেকে রপ্তানি কমার পর গত জুলাইয়ে সুখবর মিলেছে রপ্তানি আয়ে। আগস্টেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ আগস্ট মাসে রপ্তানি বেড়েছে পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) সার্বিকভাবে রপ্তানি বেড়েছে সোয়া ২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, গত দুই মাসে মোট রপ্তানি হয়েছে ৬৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। আর গত মাসে রপ্তানি হয়েছে ২৯৭ কোটি ডলার। গত বছরের আগস্টে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৮৪ কোটি ডলার।
সার্বিকভাবে রপ্তানির এই চিত্রকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এ খাতের উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা। দেশের রপ্তানির ৮০ ভাগের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি ও আগামী মাসেও রপ্তানি আদেশ ইতিবাচক।
অবশ্য তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিসংখ্যান নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৩২৪ কোটি ডলারের। আর ইপিবির হিসাব অনুযায়ী ২৪৬ কোটি ডলারের। অর্থাত্ ইপিবির দেওয়া পরিসংখ্যানের চাইতে বিজিএমইএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৭৮ কোটি ডলার বেশি। তবে সরকারি সংস্থা হিসেবে ইপিবির তথ্যই নির্ভরযোগ্য। ইপিবি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করে। ফলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিজিএমইএর তথ্য।
ইপিবির হিসাব অনুযায়ী, গত দুই মাসে পোশাক পণ্য রপ্তানি পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৬ শতাংশ কমেছে। যদিও করোনার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তা অনেক ইতিবাচক। অবশ্য লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। এছাড়া পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৫০ শতাংশ, কৃষিজাত পণ্য ৩৩ শতাংশ, ওষুধ ১৯ শতাংশ, হিমায়িত মাছ ৬১ শতাংশ। এর বাইরে অন্যান্য পণ্যের বেশিরভাগের রপ্তানি কমেছে।
