নবনিযুক্ত পর-রাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, অর্থ-নৈতিক কূটনীতিতে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়তে চায় বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী দৃঢ় অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, আমার মূল লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থ-নৈতিক কূটনীতি অনুসরণ করা।
গত ৭ জানুয়ারি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এ কে আবদুল মোমেন। দায়িত্ব নেওয়ার একদিন পর ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই সাক্ষাত্কারটি দেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সুফল ঘরে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিদেশি সহায়তা আনার ক্ষেত্রেও তার কার্যালয় ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে ভারত ও চীনের মতো প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসের মতো আর কোনো সময়েই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এত ভালো ছিল না। আমরা তা ধরে রাখার পাশাপাশি এই সম্পর্ক অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাবো। একই সময়ে চীনের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুফল আদায়ের চেষ্টা করবে বাংলাদেশ। তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, গত কয়েক বছর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে। উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের সফর হয়েছে। গত বছরের মে’তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করেন। ওই সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সময়ে মোদী বলেছিলেন, স্থল ও উপকূলীয় সীমানার মতো জটিল ইস্যুর সমাধানের মাধ্যমে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ‘স্বর্ণালী অধ্যায়’ পার করছে। ২০১৮ সালে দুই দেশ বহু যৌথ উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আখাউড়া-আগরতলা রেল লাইন নির্মাণ এবং কুলাউড়া ও শাহবাজপুর রেললাইন পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট। এটিকে অর্থনৈতিক ইস্যু বললেও তার মতে, সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিবেশী দেশকে যুক্ত করে এই সংকটের সমাধান করা না গেলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই অবিলম্বে এই ইস্যুর সমাধান দরকার। অন্যথায় তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে অপেক্ষাকৃত নতুন মুখ মোমেন। এর আগে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭০ এর দশকের শুরুতে তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনাও করেছেন। অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রির পাশাপাশি বোস্টনের নর্থ-ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়েছেন জনপ্রশাসন, জননীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিষয়ে এমপিএ ডিগ্রি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
