সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে ‘ডাইভারসিটি টকস’ এর দ্বিতীয় পর্ব

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৮

দ্যা আর্থ সোসাইটির আয়োজনে এবং ডাইভারসিটি ফর পিস ও ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ডাইভারসিটি টকস’ অনুষ্ঠান। কাজী আইটি সেন্টার-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জারা মাহবুবের উপস্থাপনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের আলোচনার বিষয় ছিল 'আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং কোভিড-১৯ প্রতিরোধে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যমের ভূমিকা'। সমাজে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং আমাদের দেশে বসবাসরত নানা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে এই কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যম কিভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে, সে প্রসঙ্গে অতিথিরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

আলোচনায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের  ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, মহামারির এই সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসময় প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যমের সহায়তায় আমরা প্রায় ১১ কোটিরও বেশি মানুষকে রিচ আউট করতে পেরেছি। তিনি মহামারির সময়ে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা ও নানাদিক এগিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি এবং লজিস্টিকস কানেক্টিভিটি প্ল্যানের কথা উল্লেখ করেন।

এছাড়া প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ ও সচেতনতা তৈরি এ দুটির মাধ্যমেই সরকার রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটা ডিজিটালি শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলা যেন কেউ কোন মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয় এবং একজন আরেকজনের সম্মান নষ্ট না করে তার জন্য তাদের সবাইকে সচেতন করে গড়ে তোলা।

পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি দুর্গম এলাকায় মহামারির এ সময়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কিভাবে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যমের সেন্ট্রাল এইড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার তৈরি করে প্রায় ৫০ লক্ষ দুঃস্থ পরিবারকে ২৫০০ টাকা করে পৌঁছে দেয়া হয় সে বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আখতার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, মহামারির এ সময়ে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে ২০২০ সালেই আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি। এখন আমরা প্রযুক্তির সহায়তায় দিনে দুই-তিনটি সভা করতে পারছি।

করোনাকালীন সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগসমূহের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তাঁদের মাধ্যমে একটি সামাজিক ব্যবসা প্রচলন এবং কৃষিপণ্য নষ্ট হওয়া প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুব খামারি ও কৃষকের উৎপাদিত ফলমূল, শাকসবজি ইত্যাদি কৃষিজাত পণ্য ন্যায্যমূল্যে যুব উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভোক্তাদের নিকট ন্যায্যমূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করার জন্য যুব পাইকারিসেল ডট কম নামে একটি ই-কমার্স প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধে বাংলাদেশের যুবাদের অনন্য মানবিক অবদানের স্বীকৃতি দিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জাতীয় পুরষ্কার প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোজেক্ট ম্যানেজার রবার্ট স্টোলম্যান মহামারির এ সময়ে ইউএনডিপি বাংলাদেশ কিভাবে সমাজের প্রান্তিক গোষ্ঠীর সহায়তায় প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যমে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং কিভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরা নানা গুজবকে প্রতিহত করছেন সেসব তুলে ধরেন।

এছাড়া আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন এসবিকে টেক ভেঞ্চারস এবং এসবিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবির, সেইভ অ্যান্ড সার্ভ ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ তৈয়বুল বশর এবং বাংলাদেশ চা কমিউনিটির অ্যাক্টিভিস্ট মোহন রবিদাস।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি