কর্মসংস্থানই আমাদের অগ্রাধিকার -------------- অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৯

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ভালো কর্মসংস্থান তৈরি করাই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারেও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমারা সামাজিক বিভিন্ন সূচকে এগিয়েছি। এটা ঠিক যে কাঙ্খিত হারে কর্মসংস্থান হয়নি। এর কারণ ব্যক্ষা করে তিনি বলেন, বিগত পাঁচ বছরে শিল্প উত্পাদন এক জায়গায় স্থবির ছিলো। প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যায়নি। এখন আর সেই অবস্থা নেই। বিদ্যুত্ সংকট কেটেগেছে ফলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশে অভাবনীয় অগ্রগতি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জব ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট’ শীর্ষক প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সাথে ২৫ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাজেট সহায়তার আওতায় বিশ্বব্যাংক এই ঋণ দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান ঋণ চুক্তিতে সই করেন।

এসময় অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ২০টি দেশের তালিকায় যেতে চায়। জি-২০ তালিকায় বাংলাদেশের যাওয়া সম্ভব, কারণ আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট রয়েছে। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ভালো কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্পোরেট করসহ সব ধরণের কর কী হারে কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ থাকবে। কর্মসংস্থানের জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন খাতে সংষ্কার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এসময় বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেন, বিগত দুই দশকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে, জীবনমানের অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এর পরেও ভালো কর্মসংস্থান করা চ্যালেঞ্জ রয়েগেছে। অধিকহারে কর্মসংস্থান তৈরি করা, যোগ্যদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং নারী ও অনগ্রসরদের কর্মসংস্থানে নিয়ে আসা প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংক আগমী তিন বছরে বাজেট সহায়তা বাবদ মোট ৭৫ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে। তারই অংশ হিসেবে এই ঋণ চুক্তি হলো। প্রকল্পটির মাধ্যমে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাণিজ্য পরিবেশ আধুনিকায়নে ওয়ান স্টপ সেবা সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন, কাস্টমস আইন প্রণয়ন ও ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন, তৈরি পোশাক শিল্পে বন্ডেড ওয়্যার হাউজ যৌক্তিকীরণ ও স্বংক্রিয় বন্ড লাইসেন্স প্রথা প্রবর্তন, বেসরকারি খাতে পেনশনের আওতা সম্প্রসারণ ও পেনশন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠন, সরকারি চাকরিজীবিদের পেনশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরীক্ষামূলকভাবে কর্মকালীন ঝুঁকি বীমা প্রবর্তন করা হবে। এর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ উত্সাহিত করতে জলবায়ু বাজেট প্রণয়ন, গ্যাসের মুল্য যৌক্তিকীকরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ উত্সাহিত করা হবে। পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন নীতিমালা, অধিকহারে কর্মে প্রবেশ নিশ্চিতকরণে নীতি ও কর্মসূচি উন্নয়ন করা হবে। শিশু দিবাযত্ন আইন প্রণয়ন এবং শিশু দিবাযত্ন সেবা কেন্দ্র সম্প্রসারণ করা হবে। শুণ্য দশমিক ৫ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি, ১ দশমিক ২শতাংশ সুদের এই ঋণ পাঁচবছর রেয়াতকালসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে।