মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক
সাবরিনা শুভ্রার জন্ম ঢাকাতে। বাবা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং মা গৃহিণী। শহীদ আনোয়ার গার্লস থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়েছেন সাবরিনা। ক্যান্টনমেন্টের পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকে নিয়মকানুন আর বিধিনিষেধ তাকে শিখিয়ে দিতে হয়নি। শিখিয়ে দিতে হয়নি পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। তিনি ইউএসআইডির একজন সার্টিফাইড ইয়াং লিডারশিপ ফেলো। আবার সেই ইউএসআইডিরই একজন কোর মাস্টার ট্রেইনার। রিসার্চ করেছেন মানবাধিকার, গণতন্ত্র, বস্তির নারীদের নিয়ে। ইউএনডিপি থেকে ট্রেনিং করেছেন ডিজাস্টার-রিস্ক ম্যানেজমেন্টের ওপরে, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-ইউএসআইডির পলিসি এজেন্ট ট্রেনিং করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনে। জড়িত আছেন ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার হিসেবে। তার লেখালেখি, সংগীত চর্চা, আবৃত্তি চর্চা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের রয়েছে ভিন্ন জগত্। অবসর পেলেই গল্প সাজিয়ে ফেলেন মাথায়। লেখেন বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই। বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লেখার পাশাপাশি দৈনিক আজকের অগ্রবাণীর অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, সামাজিক বিষয়ে ৯টি বই রয়েছে। তিনি উপস্থাপনা করেন টিভি অনুষ্ঠানে। গান গাওয়ার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিও করেন। তিনি বিটিভির এক জন তালিকাভুক্ত শিল্পী।
তিনি জড়িত আছেন রক্তদানসহ নানান ধরনের সামাজিক কাজ করার সংগঠন পজিটিভ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন সোসাইটি ফর সোশ্যাল এনহান্সমেন্টের এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে আছেন তিনি। এত কিছুর সঙ্গে জড়িত থেকেও তিনি সংসার প্রেমী একজন মানুষ। স্বামী সেলিমুজ্জামান সেলিম এক জন ব্যবসায়ী। এক ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে তাদের সংসার। শত ব্যস্ততা তাকে সংসারের কোনো কাজ থেকে আলাদা করে রাখতে পারে না।
মূলত দেশ ও সমাজের সেবক হয়ে কাজ করতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ সাবরিনা শুভ্রা। কলমকে তিনি মনে করেন প্রতিবাদের এক বড় মাধ্যম। যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে তিনি কলম তুলে নেন, কথা বলেন, প্রতিবাদ করেন। তিনি আমাদের সামাজিক আবহাওয়া সুন্দর করার নিমিত্তে কাজ করে যেতে চান। লড়াই আর সংগ্রাম চালিয়ে যেতে চান আমৃত্যু। এমন কোনো অনুকরণীয় কিছু করে যেতে চান যেন মৃত্যুর পরেও তার ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত হয় মানুষ।
