জেলা প্রশাসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে করা ২ ফৌজদারি মামলা খারিজ 

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৩৭

মাদারীপুরের শিবচরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকারীরা জেলা প্রশাসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে করা ২ ফৌজদারি মামলায় কোন সাক্ষী ও প্রমাণ না থাকায় গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে খারিজ করে দিয়েছে মাদারীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হোসেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালত সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।   

জানা যায়, মাদারীপুরের শিবচরে গত ২৮ আগস্ট অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে ও পিটিয়ে ভাংচুর করে। এরপর ১ সেপ্টেম্বর মাদারীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জাকির হোসেন বাচ্চু, শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এম রকিবুল হাসান, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইউসুফ হোসেন, সার্ভেয়ার মো. রাসেল ও এমএলএসএস বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে ২টি ফৌজদারি মামলা করেন। ফৌজদারি ২টি মামলার বাদী ছিলেন শিবচর উপজেলার ডাইয়ারচর গ্রামের মনির সরদার এবং সাদুল্লা বেপারীকান্দি গ্রামের সরোয়ার বেপারী। ঐ দিন শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হোসেন মামলা গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে মামলার বাদী পক্ষ গত ৩ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই এর পরিবর্তে অন্য কোন সংস্থা বা জুডিশিয়ারি তদন্তের জন্য আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালত গত রবিবার বাদী পক্ষের সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে জুডিশিয়াল তদন্তের দিন ধার্য করেন। গত রবিবার বাদী পক্ষ আদালতে স্বাক্ষীসহ উপস্থিত হয়নি, ড্রেজার পোড়ানো সংক্রান্ত কোন ছবি, ভিডিও বা অন্য কোন প্রমাণাদি দাখিল করতে পারে নাই। এছাড়া বাদী পক্ষ মামলাটি সামনের দিকে চালানোর জন্য আগ্রহী না থাকায় এবং মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করায় বিজ্ঞ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হোসেন মামলার সার্বিক দিক বিবেচনা করে খারিজ করে দেন।

আরও পড়ুন: টেকনাফে লক্ষাধিক পিস ইয়াবা ফেলে পালাল পাচারকারী

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে জেলায় ভাঙনের তীব্রতা চরমভাবে বেড়ে যায়। এমনকি শহররক্ষা বাঁধের লঞ্চঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অবৈধ বালু উত্তোলনের ড্রেজার বন্ধে জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের ড্রেজারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয় জেলার সদর, রাজৈর, কালকিনি ও শিবচর উপজেলায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ড্রেজার ও পাইপ ধ্বংস করার অভিযান পরিচালনা হয়ে আসছিল। এদিকে জেলার মাদারীপুর সদর, কালকিনি ও রাজৈর বালু উত্তোলন বন্ধ করা হলেও শিবচরে বিষয়টি অব্যাহত ছিল। গত ২৮ আগস্ট শিবচরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি। সেই প্রেক্ষিতে ১লা সেপ্টেম্বর আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। যেহেতু মামলাটি বিধি মোতাবেক হয় না তাই বিজ্ঞ আদালত মামলা দুটি খারিজ করে দিয়েছেন।’

ইত্তেফাক/এএএম