মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র বৌদ্ধ সংগঠন আরাকান আর্মি’র সঙ্গে সরকারি বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে আটকে থাকা হাজার হাজার রোহিঙ্গা। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই হচ্ছে। পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। গুলি ও বোমার শব্দে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত।
গত সপ্তাহে আরাকান আর্মি’র হামলায় ১৩ পুলিশ সদস্য নিহতের পর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা ঘাঁটি ও বাঙ্কার বসিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। মিয়ানমার সরকার বিদ্রোহীদের গুঁড়িয়ে দিতে সেনা অভিযানের নির্দেশনা দিয়েছে। স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতা নূর আলম বলেন, রাতের বেলা প্রায়ই গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। মিয়ানমার বাহিনী আমাদের আশ্রয় শিবিরের কাছে ১০টি পোস্ট বসিয়েছে। এটা খুবই ভয়ানক।
এ সংঘাতময় পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির আবাসন বিষয়ক সমন্বয়ক নাট অসবি সব পক্ষকে বেসামরিক লোকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান। এ ছাড়া মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ওপরও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, তারা সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে অবগত। স্থানীয় প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাবাসনের অনকূল পরিবেশ মিয়ানমার সৃষ্টি করতে না পারায় প্রত্যাবাসন এখনো শুরু করা যায়নি।
