খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনের সংশোধন করা হবে :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩১

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন খুব দ্রুত সংশোধন করা হবে; যাতে ঋণ খেলাপিরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। তিনি বলেন, প্রথমত প্রধানমন্ত্রীর ও আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে আমরা ব্যাংক কোম্পানি আইনটি সংশোধন ও পরিমার্জন করব। এ ছাড়া বিধি পরিবর্তন ও কেনো খেলাপি ঋণ ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।

গতকাল বুধবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের একথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, আপাতত ব্যাংকিং কমিশন করার দরকার নেই। কারণ দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাগুলো আমরা ইতোমধ্যেই চিহ্নিত করতে পেরেছি। কিছু কিছু আইনে বিচ্যুতি আছে। আমরা সেই আইনগুলো সংশোধন করব। আমাদের নন পারফর্মিং লোন যেনো বিপুল পরিমাণ কমে আসে আমরা সেভাবে আইনগুলো পরিবর্তন করব। ঋণ খেলাপিরা খুব সহজেই আইনের দুর্বলতার সুযোগে হাইকোর্টে চলে যেতে পারে যার ফলে ঋণ খেলাপি ঋণ আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। তিনি বলেন, সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হলে দেশের জনগণের অর্থ বেহাত হয়ে যায়। আমার দেশের জনগণের অর্থ বেহাত হোক এটা আমরা চাই না। যে কোনো ব্যক্তিই সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নেক না কেন তাকে সুদসহ ফেরত দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা যদি ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হওয়ার ক্ষেত্রে জড়িত থাকে তা হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা দ্বিধাবোধ করব না ।

এ দিকে গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জব ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট’ শীর্ষক প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সাথে ২৫ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ভালো কর্মসংস্থান তৈরি করাই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারেও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সামাজিক বিভিন্ন সূচকে এগিয়েছি। এটা ঠিক যে কাঙ্ক্ষিত হারে কর্মসংস্থান হয়নি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিগত পাঁচ বছরে শিল্প উত্পাদন এক জায়গায় স্থবির ছিল। প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যায়নি। এখন আর সেই অবস্থা নেই। বিদ্যুত্ সংকট কেটে গেছে। ফলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশে অভাবনীয় অগ্রগতি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাজেট সহায়তার আওতায় বিশ্বব্যাংক এ ঋণ দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান ঋণ চুক্তিতে সই করেন।