ওয়ার্কহোলিক ফরিদপুরিয়ান!

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:১৮

মাহমুদুল হাসান কবীর

 

ফরিদপুর জেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের পণ্য বা ভিন্নধর্মী কাজ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে তৈরি করা হয়েছে, ‘ওয়ার্কহোলিক ফরিদপুরিয়ান’ অনলাইন প্লাটফর্ম। করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী এ প্লাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন। এখানে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীরা কাজ করছেন। নারী উদ্যোক্তারা দেশীয় পণ্য, হাতের কাজের পণ্য, হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা, ভেজালমুক্ত খাদ্য-বস্ত্র সারা দেশে পৌঁছানো, নারীদের নিজের পরিচয়—গল্প বলার মতো পরিচয় তৈরি করার কাজ করে যাচ্ছেন। এ গ্রুপের উদ্দেশ্য হলো কে কী নিয়ে কাজ করছে, কাজের ধরন, কোয়ালিটি, তার পণ্য মানুষ কেন নিবে এসব নিয়ে পরিচিতি বাড়ানো—যাতে ব্যবসার প্রসার ঘটে। শাড়ি, পোশাক, খাবার, কসমেটিকস, প্রসাধনী, জুয়েলারি, হাতের কাজ, নকশী এসব পণ্য নিয়ে কাজ করছেন তারা। উদ্যোক্তা সুলতানা আঞ্জুমান অনু বলেন, মহামারি করোনা একদিকে যেমন কেড়ে নিয়েছে অনেক, আরেকদিকে দিয়েছেও অনেক। আমাদেরকে শিখিয়েছে কিভাবে প্রতিকূল অবস্থাতেও জীবিকা নির্বাহ করা যায়। শিখিয়েছে হাতের মুঠোফোন দিয়ে ঘরবন্দী অবস্থায়ও উপার্জন করা যায়। ‘তরুণ প্রজন্ম অলস’ বাক্যটা আমাকে বরাবরই কষ্ট দিত। কারণ আমার আশেপাশের অনেক বন্ধুকে আমি জানতাম যারা অনেক ভালোভালো কাজ করছে; কিন্তু তাদের প্রচারণা না থাকার কারণে সবাই তাকে চেনেন না। কেউ হাতের কাজের সুন্দর ড্রেস বানাচ্ছে, কেউ ফুল, কাঠ, ক্লে ইত্যাদি দিয়ে গয়না বানাচ্ছে, কেউ অনেক মজার মজার খাবার বানাচ্ছে, কেউ হ্যান্ড পেইন্টের কাজ করছে। এদেরকে যদি কাজের সুযোগ ও পরিবেশ দেওয়া যায় এবং কিছুটা প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় তাহলে তো এরা অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারবে। করোনার সময়ে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে অনলাইন বিজনেসকে বেছে নিলাম।

ফরিদপুরের জন্য একটা ফেসবুক গ্রুপ খুলে উদ্যোক্তাদের প্লাটফর্ম তৈরি করি। গ্রুপ এডমিন প্যানেলে কাজ করছেন মুসফিকুর রহমান তনু, ফাহাদ বিন হাসানসহ কয়েকজন তরুণ। এখানে  উদ্যোক্তারা তার বিজনেসের প্রচার ও প্রসার ঘটাচ্ছে বিনামূল্যে। এ ডিজিটাল প্লাটফর্মে নারী উদ্যোক্তাদের সাথে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার ২৪ আগস্ট মত বিনিময় সভা করেছেন। উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়াও করোনার কারনে অনলাইনে আলোচনা ও বেসিক নলেজ ফর বিজনেস শীর্ষক কর্মশালা করা হচ্ছে।     

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও উদ্যোক্তা ফেরদৌসী বিনতে আব্দুল মান্নান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষার্থীরা বা কম শিক্ষিত লোক উদ্যোগ নিতে যেন লজ্জা না পায়, বেকারত্বকে যেন কেউ বরণ না করে সেই চিন্তাধারা থেকেই আমার উদ্যোগ। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো কাজকে ছোট মনে করি না। দেশী পণ্যকে ভালোবেসে কাজ করে যাচ্ছি। আমি চাই মাঠ পর্যায়ে কৃষককে ন্যায্য মূল্য দিতে, আর ভোক্তাকে সম্পূর্ণ অর্গানিক সেবা দিতে। করোনাকালে যখন চারদিকে আতঙ্ক ও ভয় বিরাজমান ঠিক সেই সময়ে আমি চিন্তা করলাম ঘরে বসে কিভাবে সেবার মাধ্যমে এক সঙ্গে একাধিক মানুষের সাহায্য করতে পারি। তখন আমি ফরিদপুরের কালো জিরা, মধু, তেল, সরিষার তেল, নারিকেল তেল, ঘি, আম ও লিচু নিয়ে কাজ শুরু করি। সেইসঙ্গে শুরু করি আমার পেজ ‘খাঁটিবিতান’-এর কার্যক্রম। আমার এ উদ্যোগ ১৫ দিনে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। আমি টিম ওয়ার্ক করে লাভবান হই এবং ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জন করি। শূন্য থেকে ১০ হাজার প্রফিট হয় কোনো পুঁজি ছাড়া।

ঈদে বাবার দেওয়া ৫ হাজার টাকা যোগ করে শুরু করি এবং সরাসরি তাঁতিদের কাপড় কিনে তাদের ন্যায্য মূল্য পাইয়ে দিতে আমার দ্বিতীয় পেজ ‘এম এফ কালেকশন বিডি’র যাত্রা শুরু।