আমন রোপণের ভরা মৌসুমে ভোলার বোরহানউদ্দিনের চাষীরা বেশি দামেও চারা পাচ্ছেন না। কারণ হিসেবে কৃষক বন্যাকে দায়ি করেছেন। অবশ্য কৃষি অফিস বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি কৃষক জোয়ারের আগেই আমনের চারা রোপণ করে ফেলেছেন। ওই চারাগুলোর বয়স বেশি হওয়ায় কম ফলনের আশঙ্কায় কৃষক আমন চাষে অনিহা দেখাচ্ছেন।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে এ উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১৮ হাজার পাঁচশ হেক্টর। ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর। চলতি সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করলে অধিকাংশ কৃষক চারা সঙ্কটে পুরো জমি আবাদে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
সাচড়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বর্গাচাষী হরজন আলী জানান, ৪ একর জমিতে বিআর-২২ জাতের ধান চাষের সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুসারে বীজতলা প্রস্তুত করেন। কিন্তু টানা বর্ষণ আর জোয়ারে প্লাবিত হয় তার বীজতলা। নষ্ট হয়ে যায় অর্ধেক চারা। অনেক কষ্টে কেজি প্রতি ১৩৫ টাকা দরে তিনি চারা কিনেছেন কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এদিকে ফলন হোক বা না হোক মৌসুম শেষে জমির মালিককে একর প্রতি ১২ মণ ধান দিতেই হবে।
বন্যার পানিতে বীজতলা নষ্ট, চারার সঙ্কট ও অধিক দামের কথা জানিয়েছেন শহিদুল মীর, মাজেদ, মহিজল, মফিজুল হক ঢালীসহ অনেকেই।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওমর ফারক জানান, চারা নষ্ট নয়, আসলে কৃষকরা সাধারণত ৩৫-৪০ দিন বয়সী উত্তম চারা রোপণ করতে চায়।এর বেশি বয়স হলে চারায় গিট হয়ে যায়।ওই চারায় অপেক্ষাকৃত ফসল কম হয়। কৃষকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, তাদের কাছে আপদকালীন বীজ মজুদ আছে।
ইত্তেফাক/এসি
