দেশে ৫৭ ভাগ ডায়াবেটিক রোগী আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানে না

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০৮

দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্ত প্রায় ৫৭ ভাগ রোগী তাদের অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফেডারেশনের (আইডিএফ) তথ্যানুযায়ী , বর্তমানে বাংলাদেশে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬৯ লাখ। আর ২০৪৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৩৭ লাখে পৌঁছবে। এ ছাড়া, দেশে ১৭ হাজার ৫৭ জন শিশু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

এদিকে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে গতকাল বারডেম মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে আমাদের সচেতনতার পাশাপাশি পরিকল্পিত নগরায়ন করতে হবে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় যেন খেলার মাঠসহ স্কুল-কলেজেও এ সুবিধা থাকে। পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। গর্ভককালীন সময়ে মায়েদের পুষ্টি ঠিক থাকলে, ওজনও ঠিক থাকে। এ ক্ষেত্রে গর্বের শিশু ও গর্ভবতী মায়ের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। অর্থাত্ পরিকল্পিত গর্ভধারণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে হবে। যারা ইতোমধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন তারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করুন। আর যারা সুস্থ আছেন তারা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সচেতন হোন। ডায়াবেটিস প্রতিরোধের এ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি।

গতকাল বুধবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস’ পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে ডায়াবেটিক সমিতি আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, লিফলেট বিতরণ, বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা কার্যক্রমের আয়োজন করে। এ বছর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘ডায়াবেটিস প্রতিটি পরিবারের উদ্বেগ’। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সমিতির ন্যায়পাল মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক এ আর খান। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন , বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি ইস্ট্রাপ পিটারসন, নভো নরডিস্কেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনান্দ শেঠি, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক জাফর আহমেদ লতিফ ও অধ্যাপক মো. ফারুক পাঠান।

 বক্তারা বলেন, বিশ্বে এমন কোনো পরিবার নেই, যে পরিবারে ডায়াবেটিস নিয়ে উদ্বেগ নেই। এবার এই দিবস উপলক্ষে ১ লাখ মানুষের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং করানো হবে বিনামূল্যে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম চালু রয়েছে। চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ডায়াবেটিস অসংক্রামক রোগ হয়েও বিশ্বে তা সংক্রামক রোগের মতোই মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। একে প্রতিরোধ করতে আমরা নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। ডায়াবেটিস যেন আমরা বহুলাংশে কমিয়ে আনতে পারি, এটাই এখন আমাদের স্বপ্ন। শুধু ডায়াবেটিক রোগীকে নয়, রোগীর পরিবারকে প্রশিক্ষিত ও সচেতন হতে হবে। কারণ সময়মতো ওষুধ খাওয়া, ইনসুলিন নেওয়া এবং নিয়মিত খাবার খাওয়া কেবল একা রোগীকে সচেতন হলে হবে না। একজন ডায়াবেটিস রোগকে সুনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করতে গেলে অবশ্যই তার পরিবারকে সচেতন হতে হবে। দিবস উপলক্ষে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত সচেতনতামূলক পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ছাড়াও শাহবাগে থেকে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় বারডেম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় রোগী ও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের মধ্যে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব।

 দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) ও পদ্মা টেক্সটাইলের সাথে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কাজের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস নিয়ে কাজ করা ইনসুলিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্ক। এছাড়া ‘শিশুদের ডায়াবেটিস প্রতিবন্ধকতা ও আমাদের দায়বদ্ধতা’ বিষয়ে গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় বারডেম মিলনায়তনে।