দেড় মাস পর অজ্ঞাতনামা শিশু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে রংপুর পিবিআই পুলিশ। গত ১৬ জুলাই নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার রামডাঙ্গা ফরেস্ট ও সিংগাহাড়া নদীর তীরে একটি তালাবদ্ধ ট্যাংক থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর পরিচয় ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বাবা ও সৎ মাসহ আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে রংপুর পিবিআই পুলিশ।
রংপুর পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই একটি ট্যাংক পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরদিন পুলিশ ট্যাংকটি খুলে বেডশীট ও কাঁথা মোড়ানো অবস্থায় একটি অর্ধ গলিত লাশ পায়। পিবিআই রংপুর ক্রাইমসিন লাশ সংরক্ষণ করে এবং সকল বস্তু ও সাক্ষ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। লাশটি ঝলসানো ও অর্ধ গলিত থাকায় ফিঙ্গার প্রিন্ট গ্রহণ করে সে সময় শিশুটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা করা হয়।
রংপুর পিবিআই পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি স্পেশাল টিম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায় ১ মাস ১৭ দিন পর অপরাধের মোটিভ, প্রক্রিয়া ও মৃত শিশুর পরিচয় এবং নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার একটি এনজিওতে কর্মরত নিহত শিশু জিহাদ (১২) এর বাবা জিয়াউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
জিয়াউর রহমানের স্বীকারোক্তি মতে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় তার ভাড়া বাসা থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী শিশু জিহাদের সৎ মা আলেয়া মনি(১৯) ও তার শ্বশুর আইয়ুব আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়। তার ভাড়া বাড়ি থেকে ইলেক্ট্রিক ওয়াটার হিটার জব্দ করা হয়। যার মাধ্যমে জিহাদকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য গরম পানি শরীরে ঢালা হয়।
আরও পড়ুন: নাগরিক সেবা গতিশীল করতে মাদারীপুরে কর্পোরেট সিমকার্ড বিতরণ
পিবিআই জানায়, ধৃতদের তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশু জিহাদের সৎ মা আলেয়া মনি এবং তার বাবা জিয়াউর রহমানের সাথে শিশু জিহাদের বনিবনা না হওয়ায় তারা একত্রে পরিকল্পিতভাবে গত ১৪ জুলাই রাতে ঘুমন্ত জিহাদকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। বাসায় ব্যবহৃত একটি স্টিলের ট্যাংকে শিশু জিহাদের লাশ পেঁচিয়ে ভেতরে ঢুকায়। আইয়ুব আলী পার্শ্ববর্তী মীম ভ্যারাইটিজ স্টোর হতে দুইটি চাইনিজ তালা কিনে এনে ট্রাংকটি তালাবদ্ধ করে। পরে লাশ ভর্তি ট্রাংকটি অপসারণের জন্য বিরল হাসপাতালের গেটের সামনে থেকে একটি নীল রঙের ছোট পিকআপ ভ্যান ১৩ হাজার টাকায় ভাড়া করে নদীর ধারে ফেলে রাখে। পিকআপের মালিক ও ড্রাইভার ইসমাইলকে(২৬) গ্রেফতার করে পুলিশ। জিহাদ হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পিবিআই পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেনের জানান, মামলাটি পিবিআই এসআই মো. ইকরামুল হক তদন্ত করছেন।
ইত্তেফাক/এএএম
