গাঙচিলের দু’জনা

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৩১

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই নায়ক-নায়িকা ফেরদৌস ও পূর্ণিমা করোনার কারণে বিরতি শেষে একসঙ্গেই আবারো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত ‘গাঙচিল’ সিনেমার শুটিংয়ের মধ্যদিয়েই তারা দুজন শুটিংয়ে ফিরবেন। ওবায়দুল কাদেরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে এই চলচ্চিত্রটি। অবশ্য শুটিং শেষ না হলেও এরইমধ্যে সিনেমাটির পোস্টার ফেসবুকে প্রকাশিত হয়েছে। লকডাউনের দিনগুলোতে বাসাতেই নিরাপদে থাকার পর ফেরদৌস কিংবা পূর্ণিমা দুজনের কেউই এখনো বাসা থেকে বের হননি। দুজনেই মূলত রাষ্ট্রের আদেশকে সম্মান জানিয়েই গৃহবন্দী সময় কাটিয়েছেন লকডাউনের দিনগুলোতে। এমনকি লকডাউনের দিনগুলোর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তারা পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে ঘর থেকে বের হননি। ফেরদৌসের দুই মেয়ে এবং পূর্ণিমার এক মেয়ে। দুজনই মূলত সন্তানদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতার কথা ভেবেই ঘর থেকে বাইরে পা ফেলেননি। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি সিনেমার শুটিং শুরু হয় তবে দুজনই শুটিং করবেন বলে জানা যায়। তবে যথাযথভাবে যদি স্বাস্থ্যবিধি না মেনে শুটিং করা হয় তাহলে দুজনের কেউই শুটিং করবেন না। এদিকে ‘গাঙচিল’ সিনেমার শুটিং কবে নাগাদ শুরু হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আজ বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন সিনেমার শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে। জানা যায়, অন্যদের সিনেমার শুটিংয়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ‘গাঙচিল’ টিম সিদ্ধান্ত নিবে কবে নাগাদ শুটিং শুরু করা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে ফেরদৌস বলেন, ‘করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আসলে কোনোভাবেই শুটিং করা সম্ভব নয়। তারপরও  পরিচালকরা সিনেমায় কাজ করার জন্য যোগাযোগ করছেন। আমার পরিবারের কথা ভাবনায় রেখেই আসলে শুটিং করতে পারছি না। অনেকেই বলছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিংয়ে যাবেন। কিন্তু আদৌ কি স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং করা যায়। নাটকের শুটিং স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেউ কেউ করছেন। আবার অনেকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ারও খবর পাচ্ছি। মূলকথা, আমি মনে করি— পরিবার আমার কাছে সবার আগে। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা জরুরি। কারণ আমার স্ত্রী, আমার দুই মেয়ের কথা আমাকে ভাবতেই হবে। বাইরে গিয়ে শুটিং করে আমাকে বাসাতেই ফিরতে হবে। তবে যদি শুটিয়ে ফিরি তাহলে ‘গাঙচিল’ দিয়েই ফিরব। কারণ এই সিনেমার কাজটি দ্রুত শেষ করে দর্শকের সামনে নিয়ে আসা উচিত বলে মনে করি।’ পূর্ণিমা বলেন, ‘লকডাউনের দিনগুলোতে আমি যেমন ঘর থেকে একদমই বের হইনি, এরপরও অনেকের কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও আসলে করোনা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা ভালো নয়। যে কারণে আমি এখনো কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নেইনি। কারণ আমার কাছেও অন্য সবারই মতো পরিবারের নিরাপত্তা আগে। আমার মেয়ে আরশিয়ার জন্যই সবচেয়ে বেশি দুঃশ্চিন্তা। তার নিরাপত্তাটাই বেশি জরুরি। যে কারণে ঠিকঠাকমতো যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং করা হয় তাহলে ভেবে দেখা যেতে পারে। সেটা সময় হলেই আসলে ভাবনার বিষয়। তবে যেহেতু গাঙচিল’র কাজটা শেষ করা জরুরি—তাই যদি কাজ করি তবে ‘গাঙচিল’ দিয়েই শুরু করব।’