কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বাংলাদেশের শ্রমজীবী নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান সম্পর্কিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়—সীমিত পরিসরে কারখানা চালু হলেও নারী শ্রমিকেরা আছেন চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে। বেতন বন্ধ বা আংশিক বেতন থাকায় ৫২ শতাংশ নারী গৃহশ্রমিক আর্থিক সংকটে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন ১৬ শতাংশ এবং সাময়িকভাবে ছাঁটাই হয়েছেন ২০ শতাংশ শ্রমজীবী নারী।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এই সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। গতকাল বুধবার অনলাইনে প্রেস কনফারেন্সে সমীক্ষার তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠনের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। তথ্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপপরিষদের রিসার্চ ও ট্রেনিং অফিসার ও সদস্য আফরুজা আরমান।
সমীক্ষার জন্য সংগঠনের ২৬টি জেলা শাখার সংগঠকদের মাধ্যমে তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। প্রতিটি জেলা থেকে পাঁচ জন করে মোট ১৩০ জন শ্রমজীবী নারী এ সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী শ্রমজীবী নারীদের বেশির ভাগই বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক ও স্বল্প আয়ের মানুষ। সমীক্ষার তথ্য মতে, সর্বোচ্চ ৩৯ শতাংশ নারী হচ্ছেন—ফ্যাক্টরি শ্রমিক, যারা বিভিন্ন কারখানায় যেমন : পোশাক শিল্প, জুতা তৈরির কারখানা, ব্যাগ তৈরি কারখানা ইত্যাদিতে কাজ করেন। সাধারণ ছুটিতে কারখানা বন্ধ আছে বলে ১৮ শতাংশ নারী শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারছেন না, আশিংক বেতন পাচ্ছেন ১৬ শতাংশ শ্রমিক। ঘরে খাবার না থাকায় নিম্নমানের জীবন যাপন করছেন ৩০ শতাংশ ও পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারছেন না ২৮ শতাংশ।
