রোজিনা আক্তার (২৫) নামে এক নারীকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তালতলী উপজেলা শহরের বাঁধঘাট রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন উপজেলা যুবলীগ নেতা কামাল মোল্লা। এ ঘটনায় তালতলী থানায় মামলা করা হলে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, তেতুঁলবাড়িয়া গ্রামের রোজিনা আক্তার তালতলী শহরের বাঁধঘাট চৌরাস্তায় মনিকা সাতক্ষীরা দধি ঘরে বসে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার পরিচিত জলিল নামের এক ব্যক্তির সাথে নাস্তা করছিল। এ সময় তালতলী উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম আহবায়ক কামাল মোল্লার সহযোগী সাগর চন্দ্র ও সাগর মিয়া এসে মোবাইলে রোজিনাদের ছবি ধারণ করে। রোজিনা তাদের ছবি তুলতে বাঁধা দিলে ক্ষেপে যান সাগর চন্দ্র ও সাগর মিয়া। তর্ক বিতর্কের এক পর্যায় তারা রোজিনাকে দধি ঘরে বসে মারধর শুরু করেন। এসময় যুবলীগ নেতা কামাল মোল্লা এসে রোজিনাকে টেনে হিচড়ে রাস্তায় নামিয়ে প্রকাশ্যে বেধরক মারধর করেন। তার ডাক চিৎকারে প্রচুর লোক জোড়ো হলেও সন্ত্রাসী কামালের ভয়ে কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি।
পরে স্থানীয়রা আহত রোজিনাকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রোজিনা বাদী হয়ে তালতলী থানায় সাগর চন্দ্রকে প্রধান আসামী করে যুবলীগ নেতা কামাল মোল্লাসহ ৩ জনের নামে মামলা করেন। পুলিশ প্রধান আসামী সাগর চন্দ্রকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে একটি প্রভাবশালী মহল যুবলীগ নেতাকে রক্ষায় উঠেপড়ে লেগেছেন। তারা এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আরো পড়ুনঃ ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় যুবকের হাত কর্তন
আহত রোজিনা বলেন, আমার পরিচিত জলিল মিয়াকে নিয়ে মনিকা সাতক্ষীরা দধি ঘরে বসে নাস্তা করছিলাম। এসময় দুটি ছেলে এসে আমাদের ছবি তুলছিল। আমি এর প্রতিবাদ করতেই তারা আমাকে মারধর শুরু করে। কিছুক্ষণ পরে কামাল মোল্লা এসে আমাকে ওই ঘর থেকে টেনে হিচড়ে রাস্তায় নামিয়ে বেধরক মারধর করে। আমি বহু অনুনয় বিনয় করেও কামাল মোল্লার হাত থেকে রক্ষা পাইনি।
তালতলী উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম আহবায়ক কামাল মোল্লা বলেন, এ ঘটনার সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাকে অহেতুক জড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা যুবলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, বিষয়টি আমি জানিনা। অভিযোগের সত্যতা পেলে দ্রুত তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালতলী থানার ওসি মো: কামরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার প্রধান আসামী সাগর চন্দ্রকে গ্রেফতার করে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ইত্তেফাক/এমএএম
