শিশুদের বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত শিশু পার্কের রাইডগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় সব রাইডই মেয়াদোত্তীর্ণ। জোড়াতালি দিয়ে সেগুলো সচল রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ রাইডগুলোতেই তবুও চড়ছে শিশুরা। রাজধানীতে শিশুদের জন্য বিনোদনের যথেষ্ট জায়গা না থাকায় বিনোদনের জন্য পার্কটি শিশু ও অভিভাবকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পার্কটি শিশুদের বিনোদনের উপযোগী করতে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সমপ্রতি একনেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পও পাস হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্ক আধুনিকায়ন করা হলে শিশুরা ফিরে পাবে আনন্দের জগত্। এতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়বে।
জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় পার্কে বিনোদনের নতুন ১১টি যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে। পার্কের পুরনো স্থাপনা অপসারণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। নতুন করে পার্কের ডিজাইন করা হচ্ছে। এতে পার্কের বর্তমান নকশার পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি পার্কের আয়তনও বাড়বে। শিশুদের বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে শিশুপার্কটি। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে কাজটি করবে। বর্তমানে পার্কটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, পার্কটি আধুনিকায়নের জন্য সমপ্রতি একনেকে ৭৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাস হয়েছে। এর মধ্যে পুরনো স্থাপনা অপসারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য পাঁচ কোটি টাকা এবং কনসালটেন্সি ফি বাবদ এক কোটি টাকা রাখা হয়েছে। বিনোদনের যন্ত্রপাতি এবং আন্ডার গ্রাউন্ড পার্কিং নির্মাণে বাকি ৭৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
শিশুপার্কে বর্তমানে ১২টি সরকারি খেলনা রয়েছে। যেখানে একটি খেলনা ট্রেন, একটি গোলাকার মেরি গো রাউন্ড রাইড ও একাধিক হুইল রাইড রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ৩টি খেলনা। এর মধ্যে রয়েছে ৯-ডি অ্যানিমেশন ও দুটি ঝুলন্ত নৌকার খেলনা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত ১২টি রাইডের অধিকাংশই বেশ পুরনো ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কারিগরি দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রায় সবক’টি রাইডই। রাইডগুলো মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়ায় জোড়াতালি দিয়ে সচল রাখা হয়েছে এগুলো। যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ায় ‘রোমাঞ্চ চক্র’ খেলনাটি বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। ‘উড়ন্ত বিমান’ খেলনার সিটবেল্ট নেই। কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই ঝুলন্ত তারে ঘুরছে শিশুরা। ‘ব্যাটারি কার’ খেলনাগুলো অত্যন্ত জীর্ণশীর্ণ। ‘ফুলদানি আমেজ’ খেলনার বসার সিট, নিচের মেঝে ও দড়িগুলোর বেহালদশা। ‘এফ-৬ জঙ্গি বিমান’ অত্যন্ত নোংরা। এছাড়া বিস্ময়চক্র, আনন্দ ঘূর্ণি, ঝুলন্ত চেয়ার, লম্ফঝম্ফ এবং রেলগাড়িরও করুণ দশা। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত তিনটি রাইড ব্যবহারযোগ্য হলেও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই ব্যবহার করা হচ্ছে উড়ন্ত এবং ঝুলন্ত খেলনাগুলো।
শিশুপার্কে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে সাত হাজারের বেশি দর্শনার্থী আসলেও বিভিন্ন উত্সবে দর্শনার্থী বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তখন দীর্ঘ লাইন ধরে শিশুদের বিনোদনের রাইডগুলো উপভোগ করতে হয়। ফলে বিনোদনের চেয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিশু ও অভিভাবকদের।
জানা যায়, ১৯৭৯ সালে ‘জিয়া শিশু পার্ক’ হিসেবে পাবলিক সেক্টরে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম শিশু পার্কটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সাল থেকে। পার্কটি চালুর সময় স্থাপিত রাইডগুলোর মেয়াদ ধরা হয়েছিল ১০ বছর। এ বিষয়ে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক সার্কেল) আনিছুর রহমান জানান, শিশু পার্কটি আধুনিকায়নের জন্য একনেকে ইতোমধ্যে প্রকল্প পাস হয়ে গেছে। এতে অনেক অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও রাইড যুক্ত হবে। কাজ শেষ হলে পার্কের চেহারাই বদলে যাবে।
