ওসি প্রদীপসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আরও ২ মামলা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৩৯

বন্দুকযুদ্ধের নামে আবদুল আমিন ও মফিদ আলমকে হত্যার অভিযোগে কক্সবাজরের টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আরও পৃথক ২টি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালত (টেকনাফ-৩) মো. হেলাল উদ্দিনের আদালতে এই মামলা ২টি দায়ের করা হয়।

আদালত মামলা আমলে নিয়ে টেকনাফ থানায় এ সংক্রান্ত মামলার নথিপত্র আগামী ৯ নভেম্বর আদালতে উপস্থাপনের জন্য টেকনাফ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে বাদী পক্ষের আইনজীবী আবু মুছা মুহাম্মদ। মামলা ২ টিতে ৪৬ জন পুলিশ সদস্য এবং ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে (যারা পুলিশেরে দালাল হিসেবে কাজ করতো) আসামি করা হয়েছে।

বন্দুকযুদ্ধ নাটকে নিহত আবদুল আমিন নিহতের ঘটনায় বাদী তার ভাই টেকনাফের বাহারছড়ার নুরুল আমিন এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গত ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তার ভাই আবদুল আমিনকে আটক করে পুলিশ। এরপর ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার পরও ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে হত্যা করা হয় আবদুল আমিনকে। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩৮ জনকে। যার মধ্যে ৩০ জন পুলিশ সদস্য।

আরও পড়ুন: তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর রহস্যজনক আত্মহত্যা, অভিযোগের তীর সৎ মা ও শিক্ষকের দিকে 

মফিদ আলম নিহতের ঘটনায় বাদী তার ভাই টেকনাফের হোয়াইক্যং এর মোহাম্মদ সেলিম এজাহারে বলেছেন, গত ২০১৯ সালের ১১ জুলাই তার ভাইকে আটক করা হয়। এরপর ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হলেও ৬ লাখ টাকা দেওয়ার পরও ১৪ জুলাই হত্যা করা হয় মফিদ আলমকে। এতে আসামি করা হয়েছে ১৮ জনকে। যার মধ্যে ১৬ জন পুলিশ।

এ নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সিনহা নিহতের ঘটনার পর ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যার অভিযোগ ও সাংবাদিক নির্যাতনের দায়ে ইতিমধ্যে ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ। এ ঘটনায় টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যকেও যুক্ত করা হয়েছে। যুক্ত করা হয়েছে পুলিশের মামলার তিন সাক্ষীকেও। মামলার পর ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য ৬ অগাস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। অন্য দুই আসামি পলাতক। মামলায় সহযোগী আসামিসহ বর্তমানে কারান্তরিণ রয়েছেন ১৩ জন। মামলাটি র‌্যাব তদন্ত করছে। তারা মামলার ১৩ আসামিকে নানা মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ পর্যন্ত মামলায় ১২ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে, অন্যতম অভিযুক্ত ওসি প্রদীপ সর্বোচ্চ ১৫ দিন রিমান্ডে থাকলেও তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। তারা সকলে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন। এক সময়ের প্রতাপশালী ওসি প্রদীপ কারান্তরিণ দেখে বিভিন্নভাবে তার দ্বারা হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীরা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে উদ্যোগী হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে ১৩টি মামলা ইতিমধ্যে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এএএম