বয়স ১৩। পড়ালেখা করছে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজে। ছবি আঁকতে ভালোবাসে। আর সেই ছবি আঁকার প্রতিভার গুণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পেয়েছে নামিদামি পুরস্কার। জাতিসংঘ আয়োজিত প্রতিযোগিতায় হয়েছে পৃথিবীর মধ্যে প্রথম। সেই সব সাফল্যের পর আরো বড়ো সম্মান এল তার ঘরে। জাতিসংঘ আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার সর্বকনিষ্ঠ বিচারক হিসেবে সে নির্বাচিত হয়েছে। প্রতিভাধর এই কিশোরের নাম সাইয়্যেদ মুহাম্মদ জারীফ সালেহ। কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে সর্বকনিষ্ঠ এই জুরির সাথে কথা বলেছেন—জাজাফী
কচি-কাঁচার আসর : জারিফ, তোমাকে অভিনন্দন! কেমন আছ তুমি?
জারীফ : ধন্যবাদ। আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি ।
কচি-কাঁচার আসর : বাবা পুলিশ অফিসার, মা প্রকৌশলী আর জারীফ চিত্রশিল্পী! পরিবারে ভিন্ন আরো কোনো প্রতিভা আছে?
জারীফ :আমার একমাত্র ছোট ভাই রাকীন সালেহ (৯ বছর) খুব সুন্দর ভাস্কর্য নির্মাণ করে । তাছাড়া সে ছবি আঁকায় ইউনেস্কো পুরস্কারও পেয়েছে।
কচি-কাঁচার আসর : ২০তম কানাগাওয়া, জাপান দ্বিবার্ষিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলে। এ প্রতিযোগিতা সম্পর্কে কীভাবে জেনেছ?
জারীফ : এ নিয়ে একটা ঘটনা আছে। ছবি জমা দেওয়ার ৫/৬ দিন আগে বিদেশ থেকে খালা আমাকে জাপানের এ প্রতিযোগিতাটি সম্পর্কে জানান। তখন আমার বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। আবার জাপানে ছবি পৌঁছাতেও তো সপ্তাহখানেক লাগে। মনে আছে, আমি সারারাত জেগে ছবিটি এঁকেছিলাম।
কচি-কাঁচার আসর : একজন চিত্রশিল্পীকে কল্পনাপ্রবণ হতে হয়। কোনো ছবি আঁকার ক্ষেত্রে তুমি কীভাবে শুরু করো এবং তোমার পরিকল্পনা কী থাকে?
জারীফ : প্রতিযোগিতায় তো বিষয় দেওয়াই থাকে। তখন দেড় ঘণ্টার প্রতিযোগিতায় আধা ঘণ্টা বিষয় নিয়েই ভাবি। কিন্তু নিজে যখন অবসরে আঁকি তখন সাধারণত বারান্দায় বসে যা দেখি তা-ই আঁকি। তখন ছবি তেমন ভালো না হলেও খুব আনন্দ পাই।
কচি-কাঁচার আসর : আন্তর্জাতিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তোমাকে জুরি হিসেবে মনোনয়নের প্রক্রিয়াটি কেমন ছিল?
জারীফ :২০১৮ সালে আমি যেহেতু জাতিসংঘে প্রথম হয়েছিলাম, তাদের কাছে আমার মায়ের ইমেইল অ্যাড্রেস ছিল। এ বছর জুন মাসের ১৮ তারিখ তারা ইমেইল করে জানতে চাইলেন—তাদের পুরস্কার পাওয়ার পর থেকে আমার অর্জন কী কী। আমি মেইলের উত্তর দিই। তারপর জাতিসংঘের Rheal LeBlanc, Chief, Press and External Relations আমাকে জুরি হিসেবে মনোনয়নের কথা জানান।
কচি-কাঁচার আসর : তোমার প্রিয় চিত্রশিল্পী কে? তাঁর কোন চিত্রকর্মটি তোমার বেশি প্রিয়?
জারীফ : আমার প্রিয় চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। তাঁর আঁকা ‘মোনালিসা’ আমার সবচেয়ে প্রিয়, কারণ এটা এমন এক চিত্রকর্ম যার রহস্য এখনো অজানা। শুধু এ ছবিটি দেখার জন্যই আমি ২০১৭ সালে ফ্রান্সের বিখ্যাত লুভ্যর মিউজিয়ামে গিয়েছিলাম।
কচি-কাঁচার আসর : ক্যাডেট জারীফকে কি ভবিষ্যতে বিএমএতে দেখা যাবে নাকি জয়নুল আবেদিনের মতো বিখ্যাত চিত্রকর হিসেবে দেখব?
জারীফ : দেশের সেবা করার জন্য এবং দেশের চিত্রকর্ম বিদেশে তুলে ধরার জন্য আমি দুটোই হতে চাই। তবে সবার আগে একজন ভালো মানুষ হতে চাই।
কচি-কাঁচার আসর : মনে করো, তুমি কোনো মানুষের ছবি আঁকবে। সেক্ষেত্রে মডেল হিসেবে তোমার সামনে কাকে পেলে বেশি খুশি হবে?
জারীফ : জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান অথবা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মহাগুণী মানুষদের মডেল হিসেবে পেলে আমি যারপরনাই খুশি হব।
কচি-কাঁচার আসর : গ্যাবারন ফাউন্ডেশন আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ১৭,০০০ প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম হয়েছিলে। অন্যদিকে এক লাখ বা তারও বেশি প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করে ক্যাডেট কলেজে চান্স পেয়েছ। কোনটা বেশি কঠিন ছিল?
জারীফ :দুটো দুই রকমের প্রতিযোগিতা। ছবি এঁকে আমি আনন্দ পাই আর ক্যাডেটে ভর্তি ছিল আমার স্বপ্ন।
কচি-কাঁচার আসর : তুমি ছবি আঁকতে ভালোবাস, সেটা স্বীকৃত। এর বাইরে আর কী কী পছন্দ করো?
জারীফ :আমি জাতীয় পর্যায়ে হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছি। স্কুলে সায়েন্স ফেয়ার-এ রানার্স আপ হয়েছি এবং গত বছর কমনওয়েলথ রচনা প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়েছি।
কচি-কাঁচার আসর : সাধারণত চিত্রকররা প্রদর্শনীর মাধ্যমে আর্থিক সম্মাননা পেয়ে থাকেন। তুমি তোমার প্রদর্শনী থেকে প্রথম কত সম্মানী পেয়েছিলে?
জারীফ : আমি আয়ারল্যান্ডের Icot College-এ একটি অ্যাক্রিলিক পেইন্ট ২০০ ইউরো এবং একটি তৈলচিত্র ৫৫০ ইউরোতে বিক্রি করেছি।
কচি-কাঁচার আসর : ছোটরা যারা তোমার মতো আঁকা শিখতে চায় তাদের কোন মাধ্যমটি গ্রহণ করা উচিত?
জারীফ : আমার মতে, ছোটদের কোনো ধরনের জোর না করে অ্যাক্রিলিক রং দেওয়া উচিত যাতে তারা হাত-পায়ের কিংবা আঙুলের রং-বেরঙের ছাপ দিয়ে ছবি আঁকার প্রাথমিক আনন্দটা উপভোগ করতে পারে।
কচি-কাঁচার আসর : কচি-কাঁচার আসরে তোমাকে নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক ছবি আঁকার আমন্ত্রণ জানাতে চাই। তোমার মতামত কী?
জারীফ : আমি যখন ঠিকমতো বর্ণমালা পড়তে পারতাম না, তখন আমার নানী আমাকে কচি-কাঁচার আসরের রঙিন পাতাটা পড়ে শোনাতেন, ছবি দেখাতেন। তখন থেকেই আমি কচি-কাঁচার আসরের ভক্ত। আমি খুব খুশি হব যদি আমাকে এখানে ছবি আঁকার সুযোগ দেওয়া হয়।
কচি-কাঁচার আসর :ধন্যবাদ তোমাকে আমাদের সাথে সবকিছু শেয়ার করার জন্য।
