পার্কের বেঞ্চি
সন্ধ্যারাত। পার্কের বেঞ্চিতে শুয়ে আছে একটা পাগল। পাগল বেঞ্চিকে বলল, ‘কেমন যাচ্ছে দিনকাল?’ বেঞ্চি হাসল। বলল, ‘সময় যেমন থাকে আমিও তেমনি থাকি।’ পাগল বলল, ‘তাহলে তো তুমি বেশ আছ। চাঁদনি, নির্জনতা। তার ফাঁকে দু-একটা ঝরাপাতার সংগীত।’ বেঞ্চি বলল, ‘বাহ্! তুমি দেখছি কবির চেয়ে কম যাও না।’ পাগল একটু দম নিল। বলল, ‘সুন্দর কথা বললেই এখন আর কবি হওয়া যায় না। কবিরা এখন দুর্গন্ধের মতো জটিলতাও ভালোবাসে।’ বেঞ্চি বলল, ‘তা হতে পারে। কিন্তু আমার কাছে সৌন্দর্যই কবিতা।’
পাগল চারদিকে তাকাল। তারপর বলল, ‘কেমন যাচ্ছে সেটাই কিন্তু বললে না।’ বেঞ্চি বলল, ‘সকালে এক যুগল এসেছিল। ওদের হাতগুলো কোথায় কোথায় যাচ্ছিল জানো?’ বলে হাসল বেঞ্চি। তারপর আবার বলল, ‘তখন আমি তেমনই ছিলাম। দুপুরে এক মধ্যবয়সি এসে বসল। বিরহী। তখন নিজেকে ব্যর্থ প্রেমিক মনে হলো আর বিকেলে এক বৃদ্ধ এসে আমাকে বুড়ো বানিয়ে দিয়ে গেল।’
পাগল বলল, ‘তাহলে তোমার সময় একেবারে মন্দ কাটে না। এখন আবার আছ চমত্কার রাতের সৌন্দর্য নিয়ে।’ বেঞ্চি বলল, ‘তার ওপর তোমার সঙ্গে আছি।’ পাগল জানতে চাইল, ‘এখন তুমি কেমন অনুভব করছ?’ বেঞ্চি বলল, ‘এখন আমি ঈশ্বরের মতো আছি।’
সমান
দুই ছেলেই লোভী। সবসময় ঝগড়া করে আর আলাদা হতে চায়। তাই বাবা মৃত্যুর সময় বলে গেলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর দুই ভাই সবকিছু একেবারে সমান সমান ভাগ করে নিবি। তোদের মোড়ল চাচাকে জিজ্ঞেস করে উনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা-ই মেনে নিবি। এটা আমার নির্দেশ। কথা দে তোরা।’ দুই ছেলেই কথা দিল।
বাবার মৃত্যুর পর জমিজিরাত ঘরদোর সব ভাগ করল দুই ভাই। তারপর ডাকল মোড়ল চাচাকে। মোড়ল চাচা বললেন, ‘এই জমি তোমরা দুই ভাগ করলে কীভাবে! এক অংশ তো দক্ষিণে অন্য অংশ তো উত্তরে। উত্তর আর দক্ষিণ কি সমান হলো! আর দুটো ঘরও তো সমান নয়। একটা ঘর তো সামান্য উঁচু দেখা যায়। আর দুই ভাইয়ের একজন নিয়েছ আমগাছ আর অন্যজন কাঁঠালগাছ। এটা কোনোভাবেই সমান ভাগ হতে পারে না। আমি কোনোভাবেই এতে মত দিতে পারব না।’
ভুল মানুষ
একটা লোক আয়নার দিকে তাকাল। কিন্তু নিজেকে খুঁজে পেল না। একটা লোকের ছবি অবশ্য আয়নায় ভেসে উঠেছে। তবে লোকটা যে সে নয়, সেটা খুব ভালো করেই বুঝতে পারল। তাহলে তার প্রতিচ্ছবি কোথায়?
লোকটা তার স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে এল। স্ত্রী বলল, ‘কই, ঠিকই তো আছে। এই তো তোমাকে দেখা যাচ্ছে, এটাই তো তুমি।’
‘এটা আবার আমি হই কেমন করে! আমি কি এতটাই আমার অপরিচিত! আমি কি আগে আমাকে কোনোদিন দেখিনি!’
স্ত্রী ভাবল নিশ্চয়ই তার স্বামীর মাথায় সমস্যা হয়েছে। একদিন এটা-সেটা বলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার বললেন, ‘এবার বলুন আপনার সমস্যা কী?’
লোকটি বলল, ‘আমি দেখলাম, আয়নায় যাকে দেখা যাচ্ছে সে আমার অপরিচিত।’ ডাক্তার এবার তার সামনে একটা আয়না ধরলেন। লোকটি বলল, ‘উঁহুঁ, এই লোকটাকে আমি আগে দেখছি বলে মনে হচ্ছে না।’
‘আপনি শেষ কবে আপনাকে দেখেছিলেন?’
‘কবে! ঠিক মনে নেই তো! কবে...’
ডাক্তার একটা চাঁদের ছবি আঁকলেন। লোকটা বলল, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, এটা...।’
ডাক্তার একটা ফসলি মাঠের ছবি আঁকলেন। লোকটা চেঁচিয়ে বলল, ‘এটাও তো একেবারে...।’
ডাক্তার নদীর ছবি আঁকলেন। লোকটা অবাক হয়ে বলল, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ হচ্ছে।’
ডাক্তার এবার আকাশের ছবি আঁকলেন। লোকটা এবার চমত্কার করে বলে উঠল, ‘কতদিন পর নিজেকে দেখছি!’
