আন্তর্জাগতিক

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:১০

                ভিন গ্যালাক্সির মেয়ে তুমি, ভিন্ন গ্রহের মেয়ে

                তোমায় আমি ফুটিয়ে তুলি ইচ্ছাশক্তি দিয়ে।

                দেখতে কেমন, ভাষা কী তার, কেমন অবয়ব—

                অজ্ঞ আমি, অন্ধ আমি, জানি না ওসব।

 

তার           মন তৈরি রূপ তৈরি কেমন উপাদানে

                কল্পভীরু এই কবি আর কীই-বা তার জানে!

                জানি না তার অনুভূতি, আবেগ, স্বভাবগতি

স্রেফ          অনুমানেই ফুটিয়ে তুলি, এমন প্রাণবতী!

 

ছায়াপথ ছাড়িয়ে, দূরের ওই যে আকাশগঙ্গা,

তারও ওইপারে

শঙ্কু-আকৃতির এক মিটিমিটি আলো-জ্বলা ঘরে ব’সে

ভিন্ন ভুবনের মেয়ে তুমি

নির্নিমেষ চেয়ে আছ হে আমারই জানালার দিকে।

 

হূদয়ের নেশা, এক আন্তর্জাগতিক নেশা...

একদিন ঘনিয়ে আসব ঠিকই দুইজনে, পরস্পরে।

 

তোমার আমার ঘনীভূত অভিকর্ষ দিয়ে

আস্তে-আস্তে বাঁকিয়ে ফেলব দেশকাল

দূর দুই জগতের মাঝখানে যে ব্যাকুল মহাশূন্য,

বেঁকে যাবে তা টানটান অশ্বক্ষুরাকার চুম্বকের মতো।

আলোকবর্ষের ওই মহাদূর দূরত্বই হয়ে যাবে

তুড়ি-মেরে-উড়িয়ে-দেওয়া ঘণ্টা কয়েকের পথ।

আর আমি ঠিকই সাঁতরে পাড়ি দেবো ওইটুকু মহাকাশ।

 

জ্যামিতির ছুড়ে-দেওয়া সেই এক নরম লাজুক স্পর্শকের মতো

তোমাকেই ছুঁয়ে ছুঁয়ে বয়ে যাব আমি

পৃথিবী নামের গ্রহ থেকে ছোটা হেমন্তদিনের হাওয়া।