শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমঝোতার ভূমিকা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৪২

সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা অটুট রাখতে পারস্পরিক সমঝোতার ব্যাপারে শরিয়তে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ ও তার রসুলের হুকুম মান্য করো, যদি ইমানদার হয়ে থাক।’ (সুরা আনফাল :০১)। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-কলহ ও ঝগড়াবিবাদ সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করা ছাড়াও মুমিনদের অন্তরে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বিরাট ফাটল সৃষ্টি করে, যা কখনোই কাম্য নয়। অথচ এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেছেন, ‘মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।’ (সুরা হুজরাত :১০)

মুমিনরা একে অন্যের কখনো শত্রু হবে না, বরং মুমিনরা হবে একে অন্যের অন্তরঙ্গ বন্ধু। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কয়েকটি আয়াত বর্ণনা করেছেন। যেমন সুরা তওবার ৭১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এ ব্যাপারে  বলেছেন, ‘আর ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই ওপর আল্লাহ তায়ালা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।’ মুমিনরা হবে একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল। কেননা সব মুমিন-মুসলমান ইমানি সূত্রে একই সুতায় গাঁথা। এ সম্পর্কে হাদিসে রাসুল (স) স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘পারস্পরিক মহব্বত, দয়া-অনুগ্রহ ও স্নেহ-মমতার দৃষ্টিকোণ হতে সব মুমিনের দৃষ্টান্ত হচ্ছে একটি দেহের সদৃশ। যদি দেহের কোনো অংশ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই জ্বর ও অনিদ্রা অনুভব করে।’ (বুখারি শরিফ :৬০১১)

মুমিনদের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ হলে তা উত্তম উপায়ে সংশোধনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেছেন, ‘যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ পন্থায় মীমাংসা করে দেবে এবং ইনছাফ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ইনছাফকারীদের পছন্দ করেন।’ (সুরা হুজরাত:০৯)

মিথ্যা হচ্ছে সব পাপের মূল। কিন্তু পরস্পরবিরোধী দুই ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়াবিবাদ মিটানোর ক্ষেত্রে মিথ্যা কথা বলাও শরিয়তে জায়েজ করা হয়েছে। কেননা, মিথ্যা কথা বলেও যদি পরস্পরবিরোধী দুই জনের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখা যায়, তবে সেটা হবে কল্যাণকর। এ সম্পর্কে উম্মে কুলসুম (রা) বলেছেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কল্যাণ হাসিল করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা কথা বলে যে ব্যক্তি পরস্পরবিরোধী দুই ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা করে দেয়, সে কখনোই মিথ্যাবাদী নয়। সে কল্যাণই বৃদ্ধি করে অথবা সে কল্যাণের কথাই বলে।’ (বুখারি ও মুসলিম শরিফ :২৬৯২ ও ৬৫২৭)

ঐতিহাসিকগণ বলেছেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির সময়ে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৫০০। কিন্তু হুদায়বিয়ার সন্ধির ফলে পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার। সেদিন কাফেরদের সঙ্গে সন্ধির পরিবর্তে যুদ্ধ হলে হয়তোবা এমন সুবিজয় নিশ্চিত হতো না। কেননা, যুদ্ধবিগ্রহ ডেকে আনে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা। পক্ষান্তরে একে অপরের প্রতি সমঝোতা ও সন্ধি ডেকে আনে শান্তি-শৃঙ্খলা।

lলেখক :শিক্ষার্থী, আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া