ভিয়েতনামের জাতীয় ফল ড্রাগন। মিষ্টি ও টক-মিষ্টি স্বাদের ড্রাগন চাষ করে বাগেরহাটে বিপ্লব ঘটিয়েছেন সদর উপজেলার উত্কুল গ্রামের খামারি ফজলুর করিম। নিজে ২০ একর জমির ওপর বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগনের এক বিশাল খামার গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি জেলা জুড়ে খামারিদের মধ্যে ড্রাগন চাষ ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতিটি ড্রাগনগাছ থেকে খামারিরা এক মৌসুমে পাঁচ বার ফলন তুলছেন।
ড্রাগন চাষি ফজলুর করিম জানান, ২০১৫ সালে ড্রাগনবাগানের সূচনা করেন মাত্র ১৬০টি চারা দিয়ে। এখন তার খামারে গাছের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়েছে। তার ড্রাগন খামার দূর থেকে দেখলে মনে হয় সযত্নে ক্যাকটাস লাগিয়েছে কেউ। কাছে গেলেই চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। ভিন্ন রকমের ফুল ও লাল লাল ফলে ভরা খামার। প্রতিটি গাছে রয়েছে ফুল, মুকুল এবং পাকা ড্রাগন। এ দেশের আবহাওয়া লাল, হলুদ এবং সাদা ড্রাগন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী হলেও তিনি গড়ে তুলেছেন লাল ড্রাগনের খামার। ড্রাগন লতানো কাঁটাযুক্ত গাছ, এর কোনো পাতা নেই। দেখতে অনেকটা সবুজ ক্যাকটাসের মতো। ড্রাগন গাছে শুধু রাতে স্বপরাগায়িত ফুল ফোটে। ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ রঙের হয়। তবে মাছি, মৌমাছি ও পোকা-মাকড় পরাগায়ন ত্বরান্বিত করে। কৃত্রিম পরাগায়নও করা যায়। এ গাছকে ওপরের দিকে ধরে রাখার জন্য সিমেন্টের/বাঁশের খুঁটির সঙ্গে ওপরের দিকে তুলে দেওয়া হয়। ড্রাগনের চারা বা কাটিং রোপণের ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা যায়। এপ্রিল থেকে মে মাসে ফুল আসে আর শেষ হয় নভেম্বর মাসে। ফুল আসার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা এবং ফল ধরা অব্যাহত থাকে। এক একটি ফলের ওজন ২৫০ গ্রাম থেকে এক কেজিরও বেশি হয়ে থাকে। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১০০ থেকে ১৩০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যা করলে একটি গাছ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।
এবার ফজলুর করিমের খামারে ড্রাগনের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ মণ করে। যা বাজারে পাইকারি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৭০০ টাকা দরে। এখন প্রতিদিন তার খামার থেকে বিক্রি হচ্ছে ড্রাগন গাছের চারা। প্রতিটি ড্রাগনের চারা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। কোনো বেকার যুবক বা সরকারি অফিসগুলোতে বিনা মূল্যে বিতরণ করছেন ড্রাগনের চারা।
ফজলুর করিম বলেন, করোনাকালে বিদেশফেরত যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে ড্রাগন চাষ।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, মো. ফজলুর করিমের ড্রাগন চাষের সফলতা দেখে জেলায় অনেকেই এখন ড্রাগন ফলের চাষ করছেন। বিদেশি এ ফসল দেশের মাটিতে চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। অধিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন এ ফল চোখ সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টরেল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। করোনার কারণে স্থানীয় বাজার সৃষ্টি হওয়ায় এ ফল চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।
