খিলগাঁওয়ে ব্যবসায়ী সুমন হত্যার কূল কিনারা নেই

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২২:১১

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে কাপড় ব্যবসায়ী সুমন খান হত্যার কোনো কূল কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। বিমানবন্দর সড়ক থেকে কারা তাকে অপহরণ করে হত্যার পর খিলগাঁওয়ের ডেমরা রোডে লাশ ফেলে দিয়েছে-বিষয়টি নিয়ে পুলিশ অন্ধকারে রয়েছে।

এ ব্যাপারে খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, ব্যবসায়ী সুমন খান হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত, তা এখনো জানা যায়নি। পরিবারসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পেতে নিহত সুমন খানের ম্যানেজার নুরুল হুদা মিস্টার, তার দুই কর্মচারী আল আমিন ও তারা মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিহত সুমনের স্ত্রী পারুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব আছে কিনা-তাও তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া রাতে ছিনতাইকারী চক্রের হাতে তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ৯ নভেম্বর বিকালে খিলগাঁওয়ের ডেমরা রোডের নাগদারপাড় এলাকায় ঝোপঝাড়ের ভেতর  থেকে এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের দুই হাত পিছমোড়া করে ও দুই চোখ বাঁধা ছিল। মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে আছে। পরিচয় লুকানোর উদ্দেশ্যে এসিড জাতীয় কিছু দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়া হয়। পরে কেরানীগঞ্জ থেকে সুমনের বড় ভাই রুবেল খান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে জানান, নিহত ব্যক্তি হলেন সুমন খান (৪০)। তিনি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা এলাকার একজন কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন। এ ঘটনায় রুবেল খান বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত ৫ নভেম্বর ভোরে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের বাসা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে কাপড় কেনার জন্য বের হন সুমন। সেদিন দুপুরের মধ্যেই ঢাকা হয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে পৌঁছেন তিনি। কাপড়ের দোকানের কর্মচারী তারা মিয়ার শ্বশুরের কাছ থেকে সুমন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫শ টাকার কাপড় কিনেন। দুই কর্মচারীকে দিয়ে একটি পিকআপে করে কাপড়গুলো জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পাঠিয়ে দেন। ওই দিন রাতে তিনি কেরানীগঞ্জে তার বড় ভাইয়ের বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মোবাইল ফোনে সুমনের স্ত্রী পারুলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুমনের সঙ্গে বড় ভাই রুবেলেরও কথা হয়। সে সময় সুমন রুবেলকে বলেছিলেন, ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে রয়েছেন তিনি। এরপর সুমনের মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় সুমনের কাছে টাকা ছাড়াও মোবাইল ফোন ও হাতে একটি সোনার আংটি ছিল। লাশ উদ্ধারের পর এগুলোও পাওয়া যায়নি।