সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:০৬

হুমকির মুখে ব্রিজ ও প্রতিরক্ষা বাঁধ

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার গোমতী নদীর আদর্শ সদর উপজেলা এলাকার অন্তত ১৩টি স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ নদীর বাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নদীর ব্রিজ ও প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার কুমিল্লা নগরীর নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার মডার্ন কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন নদীর পাঁচটি অংশের বালুমহালের ইজারাদার ও মেসার্স এম রহমান প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাহাবুবুর রহমান।

লিখিত অভিযোগে মাহাবুবুর রহমান বলেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে গত ১১ জুন গোমতী নদীর বালুমহাল ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে মাহাবুবুর রহমানের মেসার্স এম রহমান এবং ভূতপূর্ব ইজারাদার মেসার্স রিফাত কনস্ট্রাকশনসহ মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। এতে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় মেসার্স এম রহমান প্রতিষ্ঠানটি নদীর পাঁচটি অংশের বালুমহালের ইজারা পায়। এরপর দরপত্রে অংশগ্রহণকারী মেসার্স রিফাত কনস্ট্রাকশনসহ অন্যরা দরপত্রের শর্তানুযায়ী জেলা প্রশাসনে আবেদন দাখিল করে ৬ জুলাই দরপত্র জামানতের পে-অর্ডারের টাকা তুলে নেয়। টাকা পরিশোধের পর ৭ জুলাই জেলা প্রশাসন কর্তৃক সাইনবোর্ড টানিয়ে মেসার্স এম রহমান প্রতিষ্ঠানকে নদীর পাঁচটি অংশের বালুমহালের দখল বুঝিয়ে দেয়। মাহবুবুর রহমান আরো বলেন, প্রশাসন কর্তৃক তাকে পাঁচটি বালুমহালের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পর ভূতপূর্ব ইজারাদারের লোকেরা নদীর অন্তত ১৩টি পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ইতিপূর্বে প্রশাসন থেকে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার সরঞ্জামাদি ভেঙে ফেলা হলেও তারা উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে বিক্রির কারণে নদীর বাঁধ ও ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদ করায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী চক্রটি বৈধ ইজারাদার ও তার লোকজনকে প্রাণনাশসহ নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বাবুল, আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেন, মোশারফ হোসেন শামীম, মাছুদুর রহমান, রাশেদ মিনহাজ, জাহেদুল আলম, আলী আক্কাছ, মো. সেলিম, মাসেদুল ইসলাম বাবু, মনিরুল হক ভুঁইয়া, গাজী রিয়াজ মাহমুদ, গোলাম হোসেন তপন প্রমুখ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভূতপূর্ব ইজারাদার মেসার্স রিফাত কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘আমার আগের উত্তোলনকৃত অনেক বালু করোনা ভাইরাসের প্রভাবের কারণে অবিক্রিত ছিল, এখন তা বিক্রি করা হচ্ছে। নতুন করে অবৈধভাব বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমার কোনো লোক জড়িত নাই।’ কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ‘মাহবুবুর রহমানকে বিধি মোতাবেক নদীর পাঁচটি অংশের ইজারা স্থান বুঝিয়ে দিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে কিংবা চরের মাটি কেটে নিলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’