রাজশাহীর মসজিদ মিশন একাডেমিকে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রণমুক্ত এবং সেখান থেকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রবিবার দুপুরে রাজশাহীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রগতিশীল সুধিসমাজের নেতৃবৃন্দ এই স্মারকলিপি দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক কবি আরিফুল হক কুমার, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ডা. আবদুল মান্নান, সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামার উল্লাহ সরকার কামাল, দিলীপ কুমার ঘোষ প্রমুখ। রাজশাহীর ডিসি আবদুল জলিল তাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
প্রসঙ্গত, জামায়াত নিয়ন্ত্রিত মসজিদ মিশন সংস্থা ১৯৭৬ সালে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নেয়। পরে তারা রাজশাহীতে একে একে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। নিবন্ধন নেওয়ার পর মসজিদ মিশন সংস্থা কোনো দিন অডিট করায়নি। নিজেদের ইচ্ছেমতোই কমিটি করা হয়। মসজিদ মিশন ও তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকেই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যেক্ষভাবে সম্পৃক্ত।
প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ১১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির ১১ কোটি টাকার কোনো হদিস নেই। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদ মিশন একাডেমির প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এসব জানাজানির পর প্রতিষ্ঠানটিকে এখন ঢেলে সাজানোর দাবি উঠেছে।
এ দাবিতে গত ২২ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ও মহানগর ইউনিট মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। একই দাবিতে সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোটের রাজশাহীর পক্ষ থেকে গত ২৫ আগস্ট মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখা এবং ৫ সেপ্টেম্বর একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির রাজশাহীর জেলা ও মহানগর কমিটির পক্ষ থেকে মানববন্ধন করে একই দাবি জানানো হয়। সর্বশেষ ডিসির কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলো।
ইত্তেফাক/এসি
