আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে জিম্বাবুয়ের অবস্থানটা এখন বাংলাদেশের সমকক্ষ নয়। কিন্তু এই দলটার কাছেই সিলেট টেস্টে হেরে পর্বতপ্রমাণ ভারে চাপা পড়েছিল বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টে ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্সে ক্রমশ সেই চাপ কাটিয়ে জয়ের চিত্রপট এঁকে ফেলেছে স্বাগতিকরা। অপেক্ষা এখন তুলির শেষ আঁচড়ের।
সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে জয়ের সুবাস পাচ্ছে। জয়ের সমীকরণটা খুব স্পষ্ট। আজ বৃহস্পতিবার ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে জিম্বাবুয়ের আরও সাত উইকেট নিতে পারলেই টেস্ট ক্রিকেটে ১১তম জয় নিশ্চিত করতে পারবে বাংলাদেশ দল। জিম্বাবুয়ের হাতে ৮ উইকেট থাকলেও চোটগ্রস্ত চাতারা ব্যাট করবেন না। গতকাল চতুর্থ দিন শেষে ৩৬৭ রানে পিছিয়ে আছে জিম্বাবুয়ে। জয়ের জন্য ৪৪৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে গতকাল দিনের শেষ বেলায় আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে দুই উইকেটে ৭৬ রান তুলেছে সফরকারীরা। ব্রেন্ডন টেইলর ৪ ও শন উইলিয়ামস ২ রানে ব্যাট করছেন।
এর আগে জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন না করিয়ে সকালে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরিতে ছয় উইকেটে ২২৪ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার ম্যাচের দুই ইনিংসেই ইনিংস ঘোষণা করতে সমর্থ হলো টাইগাররা। আগেরবার এমনটা করতে পেরেছিল ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রামে।
উইকেটের কন্ডিশন, তাইজুল-মিরাজদের ঘূর্ণি আশাবাদী হতে বলছে বাংলাদেশকে। মিরপুর টেস্টে চার দিনে পড়েছে ২৪ উইকেট। প্রথম দিনে ৫, দ্বিতীয় দিনে ৩, তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে ৮টি করে ১৬ উইকেট পড়েছে। পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন সাত উইকেট।
তবে স্বাগতিকদের বড় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ফিল্ডিংয়ে। কারণ তৃতীয় দিনে ৫টি ও গতকাল ২টি ক্যাচ ফেলেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। গতকাল দুটি ক্যাচই ফেলেছেন মিরাজ। ৪৩ রান করা ব্রায়ান চারিকে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই তাইজুলের বলে জীবন দিয়েছেন ১ রানে। পরে তাকে ফিরিয়েছেন তাইজুলই। খালেদের বলে ৫ রানে থাকা মাসাকাদজার ক্যাচও ফেলেছেন তিনি। পরে মিরাজের শিকার হয়েই ২৫ রান করে ফিরেন মাসাকাদজা। আজ তাই ক্যাচ হাতছাড়া করার প্রবণতা থেকে সরে আসতে হবে স্বাগতিকদের।
প্রথম ইনিংসের মতোই গতকাল সকালে বিপর্যয়মুখর ছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা। তবে এবার ভয়বহ রুপ ধারণ করেছিল সেটি। প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে, কিন্তু এবার ১০ রানে নেই তিন উইকেট! দলীয় ২৫ রানে মুশফিকুর রহিম চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলে বিপদ আরও ঘনীভূত হয়।
জার্ভিসের অনেক বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন ইমরুল (৩)। একই বোলারের বলে বোল্ড হন লিটন (৬)। লাফিয়ে উঠা বলে ব্যাট বাড়িয়ে মুমিনুল (১) উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন।
হঠাত্ ঝড়ে এলোমেলো হওয়া বাংলাদেশকে পরের বিস্ময়টা উপহার দেন ব্যাটিংয়ে বড় ভরসা মুশফিক (৭)। তিরিপানোর লেন্থ বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন তিনি। পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন মিঠুন ও মাহমুদউল্লাহ। ১১৮ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করার সঙ্গে বড় লিডের পথেও এগিয়ে দেন।
প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া মিঠুন তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। লাঞ্চের পর ৬৭ রান করে সিকান্দার রাজার শিকার হন তিনি। আরিফুল (৫) বোল্ড হয়েছেন শন উইলিয়ামসের বলে। সপ্তম উইকেটে মিরাজের সঙ্গে ৭৩ জুটি গড়েন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। টানা চার টেস্ট পর রান খরা কাটিয়ে ওঠেন তিনি। মিরাজকে নিয়ে লিডটা চারশো ছাড়ানোর পাশাপাশি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। মাভুতার বলে দুই রান নিয়ে টেস্টে আট বছর পর সেঞ্চুরি পেলেন তিনি। ১২২ বলে অপরাজিত ১০১ রান (৪ চার, ২ ছয়) করেন মাহমুদউল্লাহ। মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ২৭ রানে। জিম্বাবুয়ের জার্ভিস-তিরিপানো দুটি করে, শন উইলিয়ামস-সিকান্দার রাজা একটি করে উইকেট নেন।
