পাইকগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র আহতের প্রতিবাদে বাস ভাঙচুর, যান চলাচল বন্ধ

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৪

পাইকগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র সাঈদ মুনতাছির সাব্বির গুরুতর আহতের ঘটনায় বাস ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। অন্যদিকে ভাঙচুরের প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাঈদ মুনতাছির সাব্বির উপজেলার ভিলেজ পাইকগাছা গ্রামের দিনমজুর মুনসুর আলী সরদারের ছেলে ও পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

জানা গেছে, বুধবার সকাল আটটার দিকে সাব্বির প্রাইভেট পড়ে বাইসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলা সদরের টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের সামনে পৌঁছালে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এ সময় সাইকেল থেকে ছিটকে গেলে বাসটি সাব্বিরকে কয়েক মিটার টেনে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরবর্তীতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং সবশেষে গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় সাব্বির নিহত হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বিক্ষুব্ধ সহপাঠীসহ অন্য ছাত্ররা ঘটনাস্থলে সমবেত হয়। ছাত্ররা প্রথমে ঈগল পরিবহন কাউন্টারের সামনে বিভিন্ন মালামালে আগুন দেয়। পরে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। এরপর বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর ও জেলা পরিষদ সদস্য শেখ কামরুল হাসান টিপু চেষ্টা চালান। আন্দোলন চলাকালীন বিক্ষুব্ধ কয়েকজন ছাত্র জিরো পয়েন্টে সড়কের উপর রাখা একটি বাস ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে পুলিশ উত্তেজিত ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও শ্রমিকরা ভাঙচুরের প্রতিবাদে সড়কে বাস ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পুলিশ ঘাতক বাসটি জব্দ করে থানায় নেয়। এ বিষয়ে খুলনা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বিপ্লব জানান, আমাদের বাস দুর্ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল না। অথচ ছাত্ররা আমাদের বাস ভাঙচুর করেছে। বর্তমানে পাইকগাছা-খুলনা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর কোনো প্রতিকার না হলে আগামীতে বিভাগের সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।

ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, দুর্ঘটনার কারণে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা সড়কে অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সকাল ১০টার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।