অযত্ন, অবহেলা ও সংরক্ষণের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনা ঢাকা গেট। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষ্য বহনকারী এই গেটটি সংরক্ষণে দায়িত্ব নিচ্ছেন না কেউ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গেটটির অবস্থান হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এটি দেখভাল করার কথা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বলছে, এটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হওয়ায় এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণ করার কথা।
এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক রাখী রায় বলেন, ‘স্থাপনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এটি সংরক্ষনের উদ্যোগ নিতে কয়েকবার চিঠিও দিয়েছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন বলেন, ‘ঢাকা গেট একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হওয়ায় এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের জন্য সমীচীন নয়। প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের উচিত এটির রক্ষণাবেক্ষণ করা।’ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিপ্তরের প্রত্নতাত্ত্বিক তালিকায় স্থাপনাটি অন্তর্ভুক্ত নয় জানালে তিনি বলেন, ‘স্থাপনাটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের অংশ। ঐতিহাসিকভাবে এর গুরুত্বও অপরিসিম। আশা করি, অধিদপ্তর স্থাপনাটিকে তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দোয়েল চত্বর পেরিয়ে টিএসসির দিকে যেতেই চোখে পড়ে হলুদ রঙের এই গেট। গেটের তিনটি অংশের একটি রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবায়নযোগ্য শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের দিকে, মাঝখানের অংশ পড়েছে সড়কের মাঝখানে এবং অপর অংশটি রয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে তিন নেতার মাজারের পাশে।
বর্তমানে মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় সড়কের ওপর গেটটির যে অংশ রয়েছে সেটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে সেটি ভেঙেও পড়তে পারে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গেটটি দীর্ঘদিনের অযত্নে খসে পড়েছে চুন-সুরকি। হলুদ রঙের ঢাকা গেটের ওপর জমেছে শেওলা। সড়কের আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে গেটের চারপাশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের পাশে যে অংশ রয়েছে সেটির বেশির ভাগ অংশই গাছের কারণে নষ্ট হয়ে গেছ। গাছের শেকড়ের কারণে গেটে ফাটলও ধরেছে। এছাড়া গেটের আশপাশে ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। অন্যদিকে তিন নেতার মাজারের পাশের অংশটিতে মাজারের কারণে রং করা হলেও গাছের কারণে সেটি ঢাকা পড়ে আছে। আর মাঝখানের অংশটি রয়েছে ঝুঁকিতে।
মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে বাংলার সুবাদার ছিলেন মীর জুমলা। এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত ঢাকা কোষ-এ বলা হয়েছে, মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকার সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করেছিলেন। অথচ এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণ করার দায় কেউই নিতে চাচ্ছে না। কার্যত অভিভাবকহীন ভাবে ধীরে ধীরে এটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার মেট্রোরেলের কারণে এটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক রাখী রায় বলেন, আমরা ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডকে (ডিএমটিসিএল) এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। যেন কোনোভাবে গেটটির কোনো ক্ষতি না হয়। তারা বিষয়টি দেখবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। আর সংরক্ষণের বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তায়।
