দিরাই উপজেলায় কৃষি শ্রমিকের তীব্র সংকট থাকায় রোপণের ভরা মৌসুমেও কৃষি শ্রমিক সংকটের কারণে ইরি-বোরো রোপণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনী কৃষি শ্রমিক না পাওয়ায় হাওর অধ্যুষিত এক ফসলি জমির এ উপজেলার অনেক এলাকায় জমিতে হালি চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, শ্রম মজুরি কম হওয়ার কারণে কৃষি শ্রমিকরা পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় এলাকায় বর্তমানে কৃষি শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকার কৃষকের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়, বর্তমান বাজারে ধানের মূল্য কম থাকায় জমিতে উত্পাদন খরচ উঠে না। তাই এত মূল্যে কৃষি শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো সম্ভব হচ্ছে না। এখানে বর্তমানে একজন কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫শ টাকা।
কৃষি শ্রমিক দিরাই পৌরসভার রাধানগর গ্রামের নূরু জানান, তিনি রিকশা চালিয়ে প্রতিদিন ৫শ থেকে ৭শ টাকা পান। তাই তিনি এখন কৃষি কাজ না করে এখন রিকশা চালান। দিরাই পৌরসভার রাধানগর গ্রমের কৃষক রফিক মিয়া জানান, তিনি এ বছর ৫ কেয়ার জমি চাষ করছেন। কৃষি শ্রমিক না থাকায় ৪ দিন যাবত্ তিনি একাই তার জমিতে চারা রোপণ করছেন। এভাবে তার কেদার জমি রোপণ করতে অন্তত ১০ দিন সময় লাগবে। দিরাই পৌর এলাকার নয়াহাটি এলাকার কৃষক জমসেদ মিয়া এলাকায় কৃষি শ্রমিক সংকটের সাথে হাওরের সেচ সংকটও রয়েছে। তাই সময় মতো জমি রোপণ করতে না পারলে ফসলে চিটা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, দিরাই উপজেলায় এ বছর ২৭০০০ হেক্টর জমি চাষের লক্ষমাত্রা রয়েছে। এ পর্যন্ত ৩০ ভাগ জমির চারা রোপণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি শ্রমিকের সংকটজনিত কারণে রোপণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
