একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল পুনর্নির্ধারণ করা হলেও আরো তিন সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সরকার বিরোধী নির্বাচনী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল বুধবার বিকেলে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এই দাবি জানান তারা। এরপরপরই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল কমিশনে গিয়ে নির্বাচন পেছানোর বিরোধিতা করেছেন। সিইসির সঙ্গে বৈঠক থেকে বেরিয়ে এইচ টি ইমাম বলেছেন, নির্বাচন এক দিন, এক মুহূর্তও পেছানো যাবে না।
ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পেছানোর দাবি করেছে। ইসি বলেছে, জানুয়ারিতে নির্বাচন করতে হলে তা ইসির জন্য কষ্টদায়ক হয়ে যাবে। কারণ কোথাও পুনর্নির্বাচন করা প্রয়োজন হতে পারে, গেজেটের বিষয় আছে, বিশ্ব এজতেমার বিষয় আছে। তবু ইসি বলেছে, কমিশন বসে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে এ বিষয়ে পরে জানাবে।
ইসির সঙ্গে দীর্ঘ দুই ঘন্টার বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংসদ নির্বাচন পেছানো হবে কি না, বিষয়টি নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিবেচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে ঐক্যফ্রন্টকে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) আমাদের নির্বাচনে সাহায্য সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি যে আমাদের প্রশ্নগুলো ওনারা (ইসি) ধৈর্য্য ধরে শুনেছেন এবং উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এরপর ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন দাবিগুলো সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। নির্বাচনে কোনো কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার না করা, সব ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে রদবদল, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা প্রত্যাহার, প্রার্থীর এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানায় ঐক্যফ্রন্ট। তাদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে ইসি। নির্বাচনের তারিখ তিন সপ্তাহ পেছানোর মূল দাবি নিয়ে গতকাল ইসির সঙ্গে বৈঠক করে ঐক্যফ্রন্ট। এতে এই জোটের ১৪ নেতা অংশ নেন। বেলা সাড়ে তিনটায় ইসি কার্যালয়ে ওই বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে ইসির অবস্থানের কথা জানতে চান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতে সাজা স্থগিত না হলে দন্ডপ্রাপ্তরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না মর্মে রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। ইসি এমন নির্দেশনা দিয়েছে কিনা জানতে চান মওদুদ। এসময় ইসির পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনার কথা অস্বীকার করা হয়। তখন ব্যারিস্টার মওদুদ ইসির উদ্দেশ্যে বলেন, তাহলে ইসির উচিত এ খবরের প্রতিবাদ গণমাধ্যমে পাঠানো।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে তিন নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব উপস্থিত ছিলেন। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমদ প্রমুখ বৈঠকে অংশ নেন।
এক ঘন্টাও নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই :আওয়ামী লীগ
ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর গতকাল সন্ধ্যায় ইসির সঙ্গে বৈঠক করতে যায় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা ইসিকে পরিস্কার বলেছেন, ৩০ তারিখ পর্যন্ত পেছানো হয়েছে। আর নয়, একদিনও নয়, এক ঘণ্টাও নয়। তিনি বলেন, ‘পৃথীবির এমন কোনো দেশ আছে, বিদেশিদের সুযোগ-সুবিধা দেখে তাদের জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে? আমরা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। আমরা আমাদের সুযোগ-সুবিধা দেখবো। আমরা দেখবো যে ডিসেম্বরের পরে গেলে কী কী অসুবিধা হতে পারে।’
এইচটি ইমামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন ড. মশিউর রহমান, রশিদুল আলম, দীপু মনি, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, বিপ্লব বড়ুয়া, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
