তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা ও সমসাময়িক ব্যাংকারের চিন্তার বলয়

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৩৭

বর্তমান সময়ে শুধু বাসা বাড়িতেই নয়, অনেক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে আর্থিক বা সমমানের প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রয়োজন তো বটেই, আবশ্যকও।  প্রযুক্তির প্রায়োগিক ব্যবহারের জন্য ইংরেজি ভাষার জ্ঞানতো আবশ্যিক, ক্ষেত্রবিশেষে কাম্পিউটারের গাণিতিক পরিভাষার জ্ঞানও অপরিহার্য হয়ে পরেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা, যা বিভিন্ন বিধি-প্রবিধি ও নীতিমালাতে মোড়া সমাজেরই প্রয়োজনীয়তার দর্পণ। যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সেবার নীতির প্রবর্তন বা প্রয়োগের বিশদ দিক নির্দেশনায় আমাদের ভবিষ্যত্ করণীয় ও বৈশ্বয়িক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সামঞ্জস্যতার মেল-বন্ধনের কথাই বলে দিচ্ছে। বিভিন্ন ধরণের অর্থ-প্রযুক্তির একীভূতকরণ ও সেবায় নতুনত্ব আনয়নে ব্যাপক প্রচার ও প্রসার; সর্বোপরি ভোক্তাগণের স্বাচ্ছন্দতায় পরিষেবাগুলো ব্যাপক সমাদ্রিত ও আলোচিত। 

‘ব্যাংকিং বুঝি কিন্তু কামিপউটার বুঝি না’ মানসিকতা পরিহার অতি আবশ্যক। অথবা সময় বাঁচানোর তুচ্ছ কারণবশত; কার্ড ও পিন উভয়ই পিয়নকে দিয়ে এটিএম থেকে অর্থ উত্তোলন কিংবা অতি যত্নে কার্ডের পেছনে পিন লিখে রাখাও ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে, এটা প্রায় সুনিশ্চিভাবে বলে দেয়া যায়। অপরদিকে মুঠোফোন অর্থ-প্রযুক্তির পরিষেবায় ‘পিন ও মোবাইল’ দোকানীকে দিয়ে অর্থ প্রেরণ, উত্তোলন বা স্থানান্তর ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়েছে।

গ্রাহককূলের তথ্য-উপাত্তের নিরাপত্তাকল্পে বহুল ব্যবহূত স্বনামধন্য ও বিশ্বে পরীক্ষিত ফ্রেমওয়ার্ক পরিপালন করত; বিভিন্ন ব্যাংক গ্রাহকের তথ্য নিরাপত্তারা স্বার্থেই খুদে বার্তায় পুরো হিসাব নম্বর বা ক্রেডিট কার্ড নম্বর প্রকাশ করে না, যাতে কোন অবস্থাতেই গ্রাহকের তথ্য ‘বেহাত’ না হয়ে যায়। এমনকি, টেলিব্যাংকিংয়ের প্রশিক্ষিত নির্বাহীদেরও পূর্ণ হিসেব নম্বর বা ‘ক্রেডিট কার্ড’ নম্বর চাওয়ার ক্ষেত্রেও তথ্য বাতায়নে নিষেধ আরোপিত হয়েছে। উক্ত নম্বরগুলো বিভিন্নভাবে মাস্কিং বা গুপ্তাক্ষরে করা থাকে যাতে কেবলমাত্র প্রকৃতভোক্তাগণই এই সুবিধা বা তাত্ক্ষনিক নির্দেশনা বা অনুমোদিত সেবার সর্বশেষ স্থিতিপ্রাপ্ত হন, তাদের স্ব স্ব গ্রাহক সেবার প্ল্যাটফর্মে যেমন- তাদের নিবন্ধিত মুঠোফোনে কিংবা ইমেইলে।

বর্তমানে ব্যাংকিং পেশায় নিজেকে পূর্ণাঙ্গভাবে মেলে ধরতে চাইলে, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাবহারিক জ্ঞান ও তত্সঙ্গে-এর নিরাপত্তার বিধির প্রয়োগিক পন্থাসমূহের সম্ভাব্য সক্ষমতার বলয় প্রসারিত করা সময়ের দাবি। অধুনিক ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন সেবার একীভূতকরণে সৃষ্ট ডেইটাবেইসের এসিড (ACID) আচরণে ‘আকলন-বিকলন’-এর পরিবর্তনের সঙ্গে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের নিরাপত্তা প্রদানও অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ‘কোর ব্যাংকিং’ ব্যবস্থাপনায়। ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকারদেরও সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে; কখন, কিভাবে, কত দ্রুত কত কম সময়ে গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করা যায়? তথ্য-নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণে বিশেষ করে দ্বি-স্তরের বলয় ব্যবহার করে। বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণের প্লাটফর্মে গ্রাহকের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বর এ প্রাপ্ত ‘ওটিপি’ ব্যবহার ও তার কার্যকারীতার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত ভোক্তার চিহ্নিতকরণ, সঠিকতা, প্রাপ্যতাও প্রযুক্তি সেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। 

 বর্তমানে ই-কেয়াইসি কেন্দ্রীয় ব্যংক কর্তৃক নির্দেশনা বাস্তবায়নে ও বিভিন্ন অর্থ-প্রযুক্তি বা ফিনটেকের (FinTech) এক অনন্য মাধ্যম গ্রাহক পরিচিতির অনুমোদনের ক্ষেত্রে। বিশ্বের মতোই আমাদের দেশেও অর্থ-প্রযুক্তির আওতায় যেকোনো প্রযুক্তি সেবা গ্রহণে মুঠোফোন নম্বরটি সর্বেচ্চ ব্যবহারিক মাধ্যম ‘ওটিপি’র ক্ষেত্রে, যার মাধ্যমে দ্বি-স্তরের নিরাপত্তার বলয় গ্রহণ করত; সেবা গ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।

অতি আসন্ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব-এর আইওটি, আইইটি, বিগ ডেইটা, বস্নক চেইন , মেশিন লার্নিং, ক্লাউড কাম্পিউটিং, মোবাইল কাম্পিউটিং, ফিনটেক  ইত্যাদি বিষয়গুলো সবই একীভূত হয়ে সমাজ ব্যবস্থায় এক নুতন ধারায় প্রবাহিত করবে, যেখানে প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই ব্যাংক হিসাব খোলা থেকেই ঋণ গ্রহণ করতে পারা ভাবনার বিষয়ে আটকে না থেকে বাস্তবেই হবে। একিভুতকরণের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতাই হচ্ছে, কোন একটি পরিষেবার ত্রুটির আপোষে গোটা ব্যবস্থাপনাতেই প্রভাব পরা মানে ঝুঁকি-প্রবণ হওয়ার সম্ভাবনার   মাত্রা বহুলাংশে বেড়ে যাওয়া। একত্রিত বা একীভূত সেবার প্ল্যাটফর্ম বা চিহ্নিত যন্ত্রগুলোকে স্বতন্ত্র, দৃঢ় ও গুপ্তাক্ষরিক নীতিমালায় নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র বিচ্যুতিও সমগ্র প্রযুক্তি ব্যবস্থ্যাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সম্মুখীন করবে। সেই সঙ্গে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশংকাও নেহাত অমূলক বিবেচনা করা সমীচীন হবে না। এক্ষেত্রে নিজে সর্বদা প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বতঃস্ফূর্ত থাকা ও সম্যক ধারণা নিয়ে সহকর্মীদের উদ্বুদ্ধকরত: সচেতনতার পরিবেশ তৈরি করতে সচেষ্ট হলেই ঝুঁকির সম্ভাবনার মাত্রা সহনীয়ভাবে কমানো সম্ভব। 

লেখক :ম. রাশেদুল হাসান খান

সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লি.