নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ব্রিফিংয়ে সিইসি

সব প্রার্থী ও দলকে সমান সুযোগ নিশ্চিতের নির্দেশ

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪৩

নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো নূরুল হুদা। গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সিইসি এই নির্দেশ দেন। বৈঠকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও থানার ওসির মধ্যে সমন্বয়ের তাগিদ দিয়ে সিইসি বলেন, কেউ যেন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে না পারে এদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বৈঠকের শুরুতে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, প্রার্থীরা যে যেই অবস্থানে থাকুন না কেন সবাইকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দিতে হবে। আইনগতভাবে যেন কেউ বঞ্চিত না হয়। কেউ যেন বাড়তি সুবিধা না পান।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে নূরুল হুদা বলেন, কোনো প্রার্থী যেন বঞ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে হবে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত একাধিক সহকারী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আচরণবিধি প্রতিপালনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের তরফে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠক সূত্র জানায়, দিনভর কয়েকটি পর্বে মূলত নির্বাচনী আইন ও বিধিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।একজন কর্মকর্তা বৈঠকে জানতে চান, অনেক সময় আইন-শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মানতে চান না। সেক্ষেত্রে তাঁরা কী করবেন? ইসি বলেছে, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশ মানতে তাঁরা বাধ্য। যদি কেউ তা মানে তাহলে ইসিকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া ওয়াজ মাহফিল বা ১৬ ডিসেম্বরের সরকারি অনুষ্ঠানে কেউ যাতে ভোট চাইতে না পারে বা রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আজ বুধবার সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল এবং বৃহস্পতিবার  রাজশাহী রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিং করা হবে।

প্রচার সামগ্রী অপসারণের সময় বাড়লো তিনদিন

এদিকে নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার সামগ্রী অপসারণের সময় আরও তিনদিন বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ জানান, প্রার্থীদের ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে নেওয়ার জন্য আরও তিনদিন সময় বাড়ানো হয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, ‘নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেইট, তোরণ বা ঘের, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী ও নির্বাচনী ক্যাম্প থাকলে তা আগামী তিনদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ খরচে অপসারণ করতে হবে।’