আপনি তো পূর্ণ মন্ত্রী হয়ে যাবেন

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪৪

নাইকো দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, রাজনীতির সঙ্গে আদালতের সম্পর্ক নেই- এ বক্তব্য ঠিক নয়। রাজনীতির সঙ্গে সবকিছুর সম্পর্ক আছে। তিনি বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এরপরেও যদি আদালতেই আটকে রাখা হয়, তাহলে বলে দিক আমাদের নির্বাচনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বিচারককে বলেন, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে মামলার বিচার নিয়ে কেন এত তাড়াহুড়ো করছেন? দুদক কৌঁসুলি নিজেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। এর আগে দুদকের যিনি চিফ প্রসিকিউটর ছিলেন তিনি মন্ত্রী হয়েছেন। অতএব, নজির যেহেতু আছে, সেহেতু উনারও (দুদক কৌঁসুলি) প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আছে। এ মামলা পরিচালনার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেবে আওয়ামী লীগ। তখন খালেদা জিয়া দুদক কৌঁসুলিকে বলেন, না, তাকে ফুল মন্ত্রী করে দেবে। জবাবে দুদক কৌঁসুলি বলেন, ম্যাডাম আমার জন্য দোয়া করবেন। গতকাল বুধবার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৯ এ নাইকো মামলার শুনানিতে এ কথপোকথন হয়। গতকাল এ মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিত আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেন বিচারক মো. মাহমুদুল কবির।

গতকাল ১১টা ৫৬ মিনিটে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ভবন থেকে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত থেকে ওই ভবনের দুরুত্ব অল্প। শুনানিতে মওদুদ আহমদ বলেন, বিচার কার্যক্রম চলার মতো পরিবেশ এই আদালতে নেই। আমাদের যত খুশি সাজা দেন, ফাঁসি দেন বিচারকাজের যে ন্যূনতম পরিবেশ সেটি বজায় রাখুন। জেলখানার ভেতরে আদালত বসিয়ে কোনো পাবলিক ট্রায়াল হতে পারে না। এ পর্যায়ে খালেদা জিয়া বলেন, বকশিবাজারের আদালতে বিচার চলছিল। হঠাত্ এখানে আদালত বসিয়ে বিচারের কারণ কি? কারাগারের ভেতরে বিচার হয় কিভাবে? তিনি বলেন, পুলিশ আদালতের নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু তারা আমার এত কাছে অবস্থান নেয় কেন? এদের কারণে আমি আমার আইনজীবীদের দেখতে পাচ্ছি না। এমনকি তাদের শুনানিও শুনতে পারছি না। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশে তো বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার বিচারও দ্রুত হয়নি। কিসের জন্য আমাদের মামলাগুলো দ্রুত বিচার হচ্ছে? এরপর মওদুদ আহমদ অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি মুলতবির আবেদন জানালে তাতে আপত্তি করেন দুদক কৌঁসুলি। পরে অভিযোগ গঠনের ওপর প্রায় ৪৫ মিনিট শুনানি করেন মওদুদ আহমদ। এরপর খালেদা জিয়া বিচারকের উদ্দেশে বলেন, সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। সকলেই যে যার এলাকায় চলে যাবে। আদালতে কেউ আসতে পারবে না। আদালতে আসা আমার জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। আপনি দেড় মাস সময় দিন। এছাড়া আদালতে হাজির থাকা সম্ভব নয়। এরপর বিচারক ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম মুলতবি করেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে আইনজীবীদের সাক্ষাত্

আদালতের কার্যক্রম শেষে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন চার আইনজীবী। এরা হলেন, মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন, এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও আহমেদ আজম খান। আদালতের পাশের একটি কক্ষে আধা ঘণ্টা এ সাক্ষাত্ হয়। তবে সাক্ষাতে কি কথা হয়েছে, সে সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে কিছু বলেননি আইনজীবীরা।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে ২০০৭ সালে ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক। খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন, সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।