পর্দা উঠল চলচ্চিত্র উত্সবের

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৬

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠলো ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব-২০১৯’ এর। গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া নয় দিনব্যাপী এ উত্সব চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। উত্সবের আয়োজক রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ। গত সাতাশ বছর ধরে এই উত্সবের আয়োজন করে আসছে সংগঠনটি। ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ এ স্লোগান নিয়ে আয়োজিত উত্সবে ৭২টি দেশের ২১৮টি চলচ্চিত্র দেখানো হবে। জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বাংলাদেশের চিরায়ত নৃত্য পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় উত্সবের উদ্বোধনী আয়োজন।

উত্সবে নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলো কয়েকটি সেশনে প্রদর্শিত হবে। সেশনগুলো হচ্ছে, এশিয়ান প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্টোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানোরমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন্স ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, ইনডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্মস। নগরীর কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন ও প্রধান মিলনায়তন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেস মিলনায়তন এবং ব্লকবাষ্টার সিনেমায় ছবিগুলো প্রদর্শিত হবে। গণগ্রন্থাগার ও জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে সকাল থেকে কয়েকটি শিশুতোষ ছবি প্রদর্শিত হবে। যা স্কুলের শিশুরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনামূল্যে দেখার সুযোগ  পাবে। পরে বিকালের প্রদর্শনীর জন্য টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ৫০ টাকা।

উত্সবের উদ্বোধন করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক। সভাপতিত্ব করেন উত্সবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উত্সবের কার্যকরী সদস্য ম. হামিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্সব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল। উদ্বোধনী পর্বে সামিনা হোসেন প্রিমার পরিচালনায় বৃন্দ নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, প্রেক্ষাগৃহে বসে সারাবিশ্ব জানা যায়। সংস্কৃতি মানুষকে চেতনার উচ্চস্তরে নিয়ে যায়। তাই এ ধরনের উত্সব নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। শাহরিয়ার আলম বলেন, ভালো সিনেমা মানুষকে বদলে দেয়। সমাজকে ইতিবাচক ও গতিশীল করে। ম হামিদ বলেন, বিশ্বের উঁচুমানের চলচ্চিত্র দেখানো হয় এ উত্সবে। যা বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বড় সুযোগ। আব্দুল মালেক বলেন, এবার এ উত্সবের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ভালো সিনেমা দেখার সুযোগ করে দিতে বিদেশি ছবির সব ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যাতে বিশ্বমানের হয়ে ওঠে সেজন্যেই আমাদের এই আয়োজন।

উত্সব উপলক্ষে প্রতিবারের মতো আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘উইমেন্স ফিল্ম মেকারস কনফারেন্স’। এতে আন্তর্জাতিক নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন। ৬০টি দেশ থেকে উত্সবে যোগ দেবেন সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র সমালোচকরা।

এবারের উত্সবে যেসব দেশের ছবি দেখানো হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বাহরাইন, বেলজিয়াম, ভুটান, ব্রাজিল, কানাডা, চিন, কিউবা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, প্যালেস্টাইন, জার্মানি, গ্রিস, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইটালি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেপাল, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও স্বাগতিক বাংলাদেশ।