নোনাজলের কাব্য

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৫৭

বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে সুমিতের

তরুণ প্রতিভাবান নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘নোনাজলের কাব্য’র আন্তর্জাতিক যাত্রা এগিয়ে চলেছে। একের পর এক বিশ্বের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উত্সবে জায়গা করে নিচ্ছে এই ছবিটি। এরই মধ্যে ৬৪তম বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উত্সব এবং ২৫ তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে স্থান করে নিয়েছে ‘নোনাজলের কাব্য’।

বুসান চলচ্চিত্র উত্সবে ‘অফিশিয়াল সিলেকশন’ পাওয়া বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নোনাজলের কাব্য’। এছাড়া রয়েছে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি, যার নাম ‘ট্রানসিট’। আগামী ২১-৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় উত্সবে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ছবিটি বুসান সিনেমা সেন্টারে প্রদর্শিত হবে। এটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন সুমিত নিজেই। এটি তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। চৈতন্য তামহানের ‘দ্য ডিসাইপেল’ এবং ইভান আয়ারের ‘মাইলস্টোন’র মতো  প্রশংসিত ছবির পাশাপাশি এটি প্রদর্শন করা হবে। বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব  (বিআইএফএফ) প্রতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরে অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই চলচ্চিত্র উত্সব এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও বৃহত্তম চলচ্চিত্র উত্সব হিসেবে বিবেচিত হয়। বুসানের পূর্বে আগামী ৭ থেকে ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ৬৪ তম বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্যও নির্বাচিত হয়েছে ছবিটি। এই বছর সারা বিশ্ব থেকে মাত্র ৫৮টি ছবিকে স্থান দেওয়া হয়েছে ‘ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে। এই চলচ্চিত্র উত্সব বিশ্বের প্রথম সারির চলচ্চিত্র উত্সবগুলোর একটি। করোনা পরিস্থিতির কারণে হাইব্রিড ফরম্যাটে হবে এবারের আসর; যাতে অংশ নিচ্ছেন কেট উইন্সলেট, সোয়ার্শা রোনানের মতোন তারকারা।

নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত বলেন, ‘এটি আমার প্রথম ছবি। চিত্রনাট্যের প্রথম খসড়া লিখেছি পাঁচ বছর আগে। পটুয়াখালীর প্রত্যন্ত এক চরে ১৫-২০ ঘর জেলের বসবাস। সেই জেলেপাড়ায় হঠাত্ এক ভাস্করের আগমন এবং তাকে ঘিরে গ্রামবাসীর জল্পনা-কল্পনা, ভালো লাগা এবং পরিশেষে সংঘাত— এই নিয়েই ‘নোনাজলের কাব্য’র গল্প। এর নির্মাণ কাজটি ভীষণ কঠিন ছিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও নানা বাধা এসেছে। করোনা মহামারি ও লকডাউন তার মাঝে অন্যতম। ২০২০-এর এই বৈরী পরিবেশে দুটি বিশ্বমানের চলচ্চিত্র উত্সবে স্থান করে নিতে পারায় আমার পুরো টিম খুবই আনন্দিত। আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও ফিল্মসংশ্লিষ্ট বিশ্বের সেরা মানুষগুলোর নজর থাকে এই উত্সবগুলোতে। সব মিলিয়ে আমি মনে করি, এটি আমার মতো একজন তরুণ নির্মাতার জন্য একটি বড় পাওয়া।’ তিনি আরও জানান, ‘আশা করছি ২০২১ সালের শুরুর দিকেই বাংলাদেশের দর্শক দেখতে পাবে ছবিটি। তবে তার আগে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে হবে।’