ফিলিপাইনের সেই ব্যাংক ম্যানেজারের কারাদণ্ড

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:০১

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের সাবেক ব্যাংক ম্যানেজার মায়া দেগুইতোকে ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। সেইসঙ্গে তাকে ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের আদালত সাবেক ওই ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের ৮টি অভিযোগের সবক’টিতে দোষী সাব্যস্ত করে।

বিশ্বের অন্যতম এই সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় এই প্রথম কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হল। প্রায় তিন বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়ে যায়। সেই অর্থচুরিতে সম্পৃক্ত থাকার দায় প্রমাণ হওয়ায় ম্যানিলা-ভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) এর প্রাক্তন শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দিগুইতোকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করে ফিলিপাইনের আঞ্চলিক আদালত। মানি লন্ডারিংয়ের প্রতিটি অভিযোগে তাকে চার থেকে সাত বছর করে জেল দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রেরও ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কা ও ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনে। এরই মধ্যে মাত্র ১৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন বা এক কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ঘটনার প্রায় তিন বছর পার হয়ে গেলেও বাকি টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি।

এদিকে এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। শিগগিরই মামলা করবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উপদেষ্টা দেবপ্রসাদ দেবনাথ বলেন, মামলা হলে শিগগিরই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরিকৃত অর্থ উদ্ধার করে ফেরত আনা সম্ভব হবে। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার এক হ্যাকারের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ করেছে এফবিআই। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয়।

চুরি হয়ে ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ফিলরেম মানি রেমিট্যান্স কোম্পানির কাছে আছে এক কোটি ৭০ লাখ ডলার। ওই অর্থ নিয়ে ফিলিপাইনের এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের একটি বাজেয়াপ্তকরণ মামলা দেশটির আদালতে চলমান। সোলায়ার নামের একটি ক্যাসিনোতে গিয়েছিল ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আদালত ফ্রিজ করে রেখেছে। এ বিষয়ে আরেকটি মামলা বিচারাধীন। আর কিম অং ক্যাসিনোতে যাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কোটি ফেরত আনা গেছে। তবে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ ডলারের ট্রেস করা যায়নি।