৩০ ডিসেম্বর রাজচালাকি হয়েছে, এমনভাবে হলো আমরা টেরও পেলাম না --------------------- ড. কামাল

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:০২

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আমি ভাবতে পারিনি ৩০ ডিসেম্বর যে ঘটনা ঘটলো। আমি তো সরলভাবে বলেছিলাম, ভাই সকালে সকালে গিয়ে ভোট দেবেন। টেলিভিশন বলছে, কামাল হোসেন বুঝতে পারছেন না ঘটনা তো রাতেই ঘটে গেছে, ২৯ তারিখ রাতেই। যেভাবে হলো আমরা কেউ টেরও পেলাম না যে, আমাদের ভোট হয়ে যাচ্ছে। আমি বলব, ৩০ ডিসেম্বর যেটা হয়েছে, সেটা রাজচালাকির একটা সুন্দর উদাহরণ। নির্বাচনের নামে এরকম ঘটনা ঘটবে, এটা আমার কাছে এখনো অবিশ্বাস্য।’ 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গণফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নতুন বছরের শুরুতে সংকট সৃষ্টি না করে জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের পথ বের করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সরকারের উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, ৩০ ডিসেম্বর যেটা হয়েছে, এটাকে কি অবাধ নির্বাচন হয়েছে কেউ বলবে? আসুন সংলাপের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া  হোক, কিভাবে আমরা সংবিধানকে মেনে নির্বাচন করে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার গঠন করব। তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে এভাবে করতে হবে কেন? এরকম অস্বাভাবিক কাজ  কেন হচ্ছে? এরচেয়ে বরং ঘোষণা দিয়ে দিন- থার্ড টার্মের জন্য একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন, তিনশ সদস্য এমপি হয়ে গেছেন।

আলোচনা সভায় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিব এক বিষয় নয়। বঙ্গবন্ধু ও  স্বাধীনতা সমর্থক, এটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা উপলব্ধি করা যাবে না। তিনিই দেশের স্থপতি। রব বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অতি ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্রকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, সারা দেশে নারীদের যেভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে, সুবর্ণচরে (নোয়াখালী) করা হয়েছে, মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ, বিবেক ক্ষত-বিক্ষত। পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরনের বর্বর, উলঙ্গ ভোট ডাকাতির নির্বাচন আর কোথাও হয়েছে বলে আমি শুনিনি। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ প্রতিদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করছে, তার আদর্শকে হত্যা করছে এবং সংবিধানকে হত্যা করছে।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে যেকোনো জায়গায় এমন কোনো লোক পাই না, যে বলে আমি ভোট দিতে পেরেছি। আর যে বলে আমি ভোট দিতে পেরেছি, সে দুইশর উপরে ভোট দিয়েছে। এটা জাতির সাথে মশকরা, তামাশা। সভায় গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, আ ম সা আ আমিন, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বীরপ্রতীক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।