নানা অব্যবস্থাপনা বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৪০

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পরিচালনায় নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যবস্থা থাকার পরও বাহির থেকে টেস্ট করানোসহ আরো বেশ কিছু অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে প্রধান কর্মকর্তা ডা. আকতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় অনেকে অভিযোগ করেন, দরজা বন্ধ করে অফিস করাসহ রুগীদের সাথে অসদ আচরণ এবং  স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাইরে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ব্যবসা করছেন এই ডা. আকতারুজ্জামান। এই প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অত্র অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

রাজশাহী সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্ব দিকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে চিকিৎসার জন্য অপারেশন থেকে শুরু করে সব ধরণের যন্ত্রপাতি রয়েছে। তার পরেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বেশির ভাগ করাতে হয় বাহির থেকে। কারণ বাহিরে পরীক্ষার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিক ব্যবসা রয়েছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বড়কর্তা আকতারুজ্জামানের। এ কারণে রুগী এলেই নানা রকম পরীক্ষা  (টেস্ট) লিখে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে  স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাইরে যে সকল আবাসিক কোয়াটার রয়েছে তার অধিকাংশই সাধারণ জনগণকে ভাড়া দেয়া। এ ছাড়াও আম গাছ, ডাব ও পুকুর লিজের হিসেব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. আকতারুজ্জামান ও তাঁর আস্থা ভাজন বড় বাবু ছাড়া আর কেউ জানেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শামিমা আক্তার ডলি নামের ওই বড়বাবু একজন স্বাস্থ্য সহকারী। সম্প্রতি সরকারি ভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য যে গাড়ি  পাওয়া গেছে তা সঠিকভাবে নিয়ম মেনে ব্যবহার হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাঘার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম মামুন বলেন, ২টি পৌরসভা এবং ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বাঘা উপজেলা। এখানে  প্রায় দুই লক্ষ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। শুরুতে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা হিসাবে গড়ে উঠলেও পরে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর এখানে অপারেশন থেকে শুরু করে সব ধরনের পরীক্ষার জন্য আনা হয় প্রয়োজনীয় মেশিন ও যন্ত্র। তবে নানা কারণে এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছেনা!

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দু’জন স্বাস্থ্য সহকারী জানান, ডা. আকতারুজ্জামানের রুমের প্রধান দরজায় তালা মেরে রাখাকে কেন্দ্র করে পাশের রুমে বর্তমানে যিনি (হিসাব রক্ষক) বড় বাবুর দায়িত্ব পালন করছেন তাকে নিয়ে নানা বাজে কথা শুনতে পাচ্ছি। তাঁদের মতে, এখানে ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হলেও প্রভাব খাটিয়ে তারা অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। এতে করে মারাত্মক বিড়ম্বনা ও হয়রানীর শিকার হতে হয় এই অঞ্চলের রোগীদের। বিশেষ করে উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চল রুগীরা এদিক থেকে খুবই অসহায়। মাঝে-মধ্যে দু’একজন ডাক্তারকে এখানে পোস্টিং দেয়া হলেও তারা  হাসপাতালের কোয়াটারে থাকেন না। অফিস করেন জেলা শহর থেকে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তা ডাক্তার আকতারুজ্জামান বলেন, এখানে কাগজে কলমে ১৯ জন ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু আছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে অনেককেই ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে রুগী দেখতে হয়। ৫ জন কনসালটেন্ট- শিশু, গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন, এনেসথেসিয়া-সহ ডেন্টাল, মেডিক্যাল অফিসার, আয়ুর্বেদিক এবং আর. এম.ও পদে ডাক্তার শূন্য রয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন পদে লোকবল সংকট রয়েছে। এ কারণে  ইচ্ছে থাকার পরেও আমরা রুগীদের  ঠিকমত সেবা দিতে পারছিনা। এসব পদে লোকবল চেয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

ইত্তেফাক/আরএ