কুড়িগ্রামের উলিপুরে অবিরাম বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধরলা ও ব্রহ্মপূত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদী অববাহিকার বিস্তৃর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বোরো ধান ও সবজি ক্ষেতে তলিয়ে গেছে। সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার ধকল কাটতে না কাটতেই আবারও বন্যার আশঙ্কায় চরম দুঃচিন্তায় প্রান্তিক চাষীরা। এদিকে পানি বৃদ্ধির সাথে নদ-নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মসজিদ, কয়েকশত ফুট পাঁকা রাস্তা,প্রায় আড়াই শতাধিক বসতভিটা ও কয়েকশ হেক্টর আবাদী নদী গর্ভে চলে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে এ উপজেলায় ২৪ হাজার ২৩০ হেক্টর রোপা আমন ক্ষেতের মধ্যে ৭৫ হেক্টর, সবজি ক্ষেত ২ হেক্টর ও মাসকালাই ১০ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া ভবেশ গ্রামের সাইফুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, আব্দুর রহমান, মুকুল মিয়াসহ অনেকে জানান, গত বন্যায় দীর্ঘসময়ে পানিতে তলিয়ে থাকায় বোরো ধান বীজ নষ্ট হয়ে যায়। অনেক কষ্ট করে ধার-দেনার টাকায় চারা সংগ্রহ করে রোপন করি। আবার ব্রহ্মপূত্রে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধান ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এবার নষ্ট হলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। ধার-দেনার টাকাও শোধ করতে পারবো না।
হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন বলেন, আবার ব্রহ্মপূত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ক্ষেতের ফসল তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক এখন ক্ষতির মুখে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
ইত্তেফাক/এসি
